পাচারের পূর্বে উদ্ধার বিরল প্রজাতির মাছ

দাবহবাহ লাইভ,  বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ পাচারের পূর্বে বিপুল পরিমান বিরল প্রজাতির মাছ উদ্ধার করে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যাুরো-র আধিকারিকেরা। কলকাতা বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্গো এলাকার ঘটনা। তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়, সূত্র মারফত তাঁরা খবর পায় যে, অ্যাকোয়া এন্টারপ্রাইজ নামক এক সংস্থার কর্ণধার হিন্দোল হালদার নামে এক ব্যাক্তি ওই মাছগুলি বুকিং করিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক কার্গো বিভাগ দিয়ে ৪টি থর্মোকলের বাক্স বিমানে পাঠানোর তোড়জোড় চলছিল। সাথে সাথে আন্তর্জাতিক কার্গো এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো-র আধিকারিকেরা। এরপর সূত্র অনুযায়ী ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে যৌথভাবে বাক্সগুলিতে তল্লাশি চালাতেই সবার চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। বাক্সগুলিতে সামুদ্রিক মাছের আড়ালে প্যাকেটে প্যাকেটে সাজানো ছিল দেখতে অনেকটা সাপের মাথার মতন ওই বিরল প্রজাতির মাছ। যা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। চারটি থার্মোকলের বাক্স থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫৫০ টি দুর্লভ 'স্নেক হেড ফিশ' বা 'চান্না বার্কা', যা বাংলায় তিলা বা পিপলা শোল নামে পরিচিত। ঘটনায় বিমানবন্দর চত্বরে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা যায়, আকৃতি ও গুণমান ভেদে প্রতিটি মাছের বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। যার মোট মূল্য কোটি টাকার কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক বাজারে ওই মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকায় অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত পক্রিয়া শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। উদ্ধারকৃত মাছগুলি কোথা থেকে কিভাবে আনা হয়েছিল, বিমানবন্দরে থাকা আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা পেরিয়ে পাচারকারীরা কিভাবে দীর্ঘদিন যাবত সক্রিয় থেকে তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ওই চক্রের সাথে আর কে বা কারা কিভাবে জড়িত, আন্তর্জাতিক কোনও পাচারচক্র এর সাথে যুক্ত কিনা- উঠেছে এমনই নানান প্রশ্ন। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় উঠে আসা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।

0 Comments

Leave a Comment