
দাবদাহ লাইভ, কোলকাতা, পার্থ ভট্টাচার্যঃ পয়লা অগাস্ট শনিবার ২০২৬ বিকেল পাঁচ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হলো একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান কলকাতার রবীন্দ্র সদন হলে। প্রায় কুড়ি বছর পরে মুক্ত পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছেন মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক কবি ও লেখিকা তসলিমা নাসারিন। সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ও শ্রীমতি অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গের নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, উপস্থিত ছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, তথাগত রায়, স্বপন দাশগুপ্ত, শাশ্বতী ঘোষ, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাথেসান্তনু সিংহ মোহিত রায় ও ওসমান মল্লিক, প্রথমে সকলকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয় এরপর উত্তরীয় দেওয়া হয়!তসলিমা নাসরিনকে মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি হাতে তুলে দেয়া হয় সকল অতিথিবৃন্দ সকলেই নিজেদের বক্তব্য রাখেন। খুব অল্প বয়সে বাংলাদেশের সে জুতি নামে সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা সূত্রে পশ্চিমবঙ্গে কবি ও লেখকদের সঙ্গে পরিচয় হয়তসলিমার। তখন আশির দশকের শুরু। প্রথম যখন বেড়াতে কলকাতায় আসেন কখন শহরটাকে অচেনা বলেই তার মনে হয়নি। গত কয়েক বছর ইউরোপের স্বচ্ছন্দ জীবন ছেড়ে কলকাতায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু কেন দীর্ঘদিন সেখানে থাকতে থাকতে বাংলা শব্দের দখল ও কমে আসছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর নয়। ঢাকাতে নির্বাসিত, তাই কলকাতাতেই ফিরবো। এবং লেখার ভাষা লেখার বিষয় এই দুয়ের জন্যই আমি বাংলার কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম । ২০০৭ এর নভেম্বর মাসে তাকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। তারপর কেটে গেছে উনিশটা বছর। শেষমেষ যে আগস্ট মাসে তার জন্ম সেই আগস্ট মাসের মুক্তচিন্তা এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লিখালিখি করার জন্য ১৯ ৯৪ সালে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত। মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন আপনাকে স্বাগত। আপনার লেখা বই সকলে পড়েন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে আপনি একজন বিশিষ্ট লেখিকা। তসলিমা জি বলেন আমার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞতার বিনিময় আমার স্বাধীন চিন্তাকে বন্ধক দেইনি। আমার মত ভিন্নতা আমাকে অকৃতজ্ঞ করে না। মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি দিয়ে সম্বন্ধনা করা হয়। সবশেষে তাসলিমা নাসরিন মৌসুমী হোসেনকে নিয়ে কবিতা পাঠ ও গান গেয়ে থাকেন। সকল দর্শকবৃন্দ হাতে তালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়।
0 Comments