ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত সার্ভিস সেন্টারের বহু গাড়ি

দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ ভোররাতে একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার সার্ভিস সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বংসী আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে সার্ভিস সেন্টারের পুরো চত্বরটি। স্থানীয় পুলিশ ও দমকলের হস্তক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কিছু গাড়ি। সোমবার ভোররাতে বিমানবন্দর সংলগ্ন যশোর রোডের বাঁকড়া খাল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন ভোর ৪টে থেকে সাড়ে ৪টে নাগাদ স্থানীয় এক ব্যাক্তি ওই সার্ভিস সেন্টারে আগুন দেখতে পেয়ে লোকজনকে খবর দেয়। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম ও বিরাটি দমকল স্টেশন থেকে প্রথমে পাঁচটি এবং পরে আরও তিনটি অর্থাৎ মোট আটটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ ৩ ঘন্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। তবে ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সার্ভিস সেন্টারের ভিতর ও বাইরে থাকা প্রায় ৩০ টি বিলাসবহুল চারচাকা গাড়ি। দমকল সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। গাড়ি শোরুম বা সার্ভিস সেন্টারের ভিতরে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তের অনুমান। এদিকে ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন দেরিতে পৌঁছানোয় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুললেও তা উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যপক শোরগোল। দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ওই নামী গাড়ি সার্ভিস সেন্টার চালানোর জন্য প্রশাসন ও দমকল বিভাগের বৈধ অনুমতি ও অগ্নি নিরাপত্তা শংসাপত্র বা ফায়ার লাইসেন্স ছিল কিনা এবং নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলে দীর্ঘ ১৫ বছর এই এলাকায় পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি পরিকাঠামো কেন গড়ে ওঠেনি তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমানে সার্ভিস সেন্টারের মালিক বেপাত্তা। তাঁর খোঁজ চালানো হচ্ছে। কিভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হল, তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষার পাশাপাশি, একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে দমকল সূত্রে খবর।

0 Comments