বিকশিত ভারতের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ রাজ্যে পালাবদলের পর বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প নিয়েও বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এর সর্বতো সহযোগিতায় ফোসমি-র তরফে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের জন্য প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফোসমির উদ্যোগে হাওড়ার কলাবাগান লেনে অবস্থিত "নক্স রেসিডেন্সিতে" অনুষ্ঠিত হয় এক আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্মেলন। উক্ত সম্মেলনে দেশ বিদেশের বহু প্রতিনিধিরা আসেন তাঁদের নিত্য নতুন শিল্প বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে। তার মধ্যে তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, নেপাল, ইউরোপের সার্বিয়া, ভিয়েতনাম থেকে আসা প্রতিনিধিরা অন্যতম। এদিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তিনি ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএসএমই মন্ত্রক এর অধীনস্ত কলকাতার এমএসএমই ডিএফও- ডিরেক্টর পি.কে. দাস, ফোসমি-র সহ সভাপতি গৌতম রায়, তাইওয়ান এর ইউ-জেন হুয়াং, নেপাল এর ডঃ নওয়া রাজ খাতিওয়াড়া, সার্বিয়া-র ডঃ দিমিত্রি পিশিচেঙ্কো, তাইওয়ান এর ডঃ হাওয়ার্ড লো, ইন্দোনেশিয়ার অধ্যাপক ডঃ এলিজাবেথ মিশবা, ফিলিপিন্স এর ইঞ্জিনিয়ার হেনরি গঞ্জালেস সুপান, ভিয়েতনাম এর ডঃ নুং ট্রান।আমন্ত্রিত বিদেশী প্রতিনিধিদের সাথে এখানকার এমএসএমই-র প্রতিনিধিরা তাঁদের মত বিনিময় করেন। ফলে অনেক নতুন শিল্প সম্ভাবনার প্রসঙ্গ উঠে আসে। উদাহরনস্বরূপ, এদিন তাইওয়ান এর প্রতিনিধি হাওয়ার্ড লো একটি শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তাইওয়ানে কলাগাছের কান্ডের তন্তু দিয়ে পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল ও সুতো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ওই তন্তু দিয়ে জুতো বা স্নিকার্স তৈরির কাজ ও গবেষণা চলছে। টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্চের মতো কোম্পানিরা ইতিমধ্যেই কলা গাছের তন্তু দিয়ে তৈরি সেই জুতো ব্যবহারের কথা ভাবছে। ফিলিপিন্স এর ইঞ্জিনিয়ার হেনরি গঞ্জালেস সুপান এর কথায়, আনারসের পাতা থেকে পাওয়া তন্তু দিয়ে তাঁরা পরিবেশবান্ধব সুতো, ঐতিহ্যবাহী ও হালকা ওজনের আধুনিক পোশাক এবং লেইস জাতীয় লাক্সারি ফ্যাব্রিক তৈরি করে চলেছে। ইন্দোনেশিয়ার অধ্যাপক ডঃ এলিজাবেথ মিশবা-র কথায়, ধানের তুষকে প্রসেস করে বিভিন্ন মুখরোচক খাদ্যসামগ্রী তৈরি করছেন তাঁরা। এদিন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস জানান, বিগত ৫০ বছর যাবত রাজ্যে শিল্প নেই। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একের পর এক কলকারখানা। রাজ্য থেকে শিল্পকে তাড়িয়ে দিয়েছে পূর্বতন সরকার। হাহাকার করেও কোনও ফল হয়নি। কর্মসংস্থানের তাগিদে নিজ রাজ্য ছেড়ে ভীন রাজ্য বা দেশে পাড়ি দিয়েছে শ্রমজীবি মানুষ। এরপর বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকার এর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বিকশিত ভারতের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, সারা ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ হল এক অন্যতম রাজ্য। জুট, সুগার, টেক্সটাইল, এগ্রিকালচার, সি প্রোডাক্ট, ছাড়াও পাহাড়, সমতল সব কিছু আছে এই পশ্চিমবঙ্গে। তাই এই রাজ্যের আর্থিক উন্নয়নের জন্য গোটা বিশ্বের সকল ব্যবসায়ীকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গকে পুনরায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণ করে তুলতে সবাইকে হাতে হাত রেখে চলারও আহ্বান জানান এদিন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বাঙালিরাই তাঁদের বিদ্যা ও বুদ্ধি দিয়ে ব্যবসা ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। তাই আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলি আর্থিকভাবে অনেক উন্নত।তিনি এও বলেন, বাংলাকে বিকশিত করার মনোভাব না থাকা, বঙ্গবাসীকে আর্থিক দিক থেকে উন্নত করার ইচ্ছে না থাকায় শিল্পকে তাড়িয়ে, কলকারখানা বন্ধ করে কর্মসংস্থানের পথ অবরুদ্ধ করেছে রাজ্যের প্রাক্তন সরকার। তবে বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে রাজ্যে নতুন শিল্প গড়া হবে, পুরানো বন্ধ হওয়া শিল্প, কলকারখানাগুলোকে আইনি পদ্ধতিতে খতিয়ে দেখে খোলার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। কারণ বঙ্গীয় হতাশাগ্রস্ত মানুষ অন্য দেশ বা রাজ্য নয়- তাঁরা এখানেই শিল্প চায়, এখানেই কর্মরত হতে চায়। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আগামী দিনে ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্প এখানেই হবে বলে আশাবাদী তিনি। এখন সরকারের তরফে বঙ্গে শিল্প ও কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা কবে কার্যকর হয়- সেইদিকে তাকিয়ে বঙ্গবাসী।

0 Comments