জীবকুলকে রক্ষা করতে পার্থেনিয়াম ধ্বংস
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি প্রায়শই গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ এর মধ্যে এমন কিছু উদ্ভিদ আছে যার জন্য প্রাণীকুলকে প্রভূত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ফলস্বরূপ সেই সকল উদ্ভিদকে ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। ক্ষতিকারক উদ্ভিদ এর মধ্যে একটি হল পার্থেনিয়াম। যেটিকে আগাছার মত যত্রতত্র গজিয়ে উঠতে দেখা যায়। পার্থেনিয়াম গাছের পাতা ও ফুল দেখতে বেশ সুন্দর। কোনোরূপ যত্ন ছাড়াই দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে সীমিত সময়ের ব্যাবধানে বিস্তীর্ন এলাকাজুড়ে বিস্তার লাভ করতে সক্ষম হয় এই উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদটি জীবকুলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রমানিত। সেই কারন বসত ওই বিশেষ উদ্ভিদটিকে পরিবেশ থেকে নির্মুল করার চিত্র প্রায়শই উঠে আসে জনসম্মুখে। এবার সেই পার্থেনিয়াম বিনষ্ট করার এক নজিরবিহীন কর্মসূচি ধরা পড়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার দেগঙ্গা ব্লকের বেড়াচাঁপা হাড়োয়া রোড থেকে। ভোর হতেই নজরে আসে বেড়াচাঁপা হাড়োয়া রোডে কাস্তে ও হেঁসোর মত বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে এগিয়ে চলেছে একদল প্রবীণ সদস্য। ভোরের আলো ফুটতেই ক্ষতিকারক পার্থেনিয়াম বিনষ্ট করার কর্মসূচিতে উদ্যোগী হয় তারা।বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছে ছেয়ে গেছে দেগঙ্গার বিভিন্ন এলাকা। যার থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হাঁপানি ও চর্ম রোগের মত নানাবিধ রোগ। অথচ সেই গাছ নির্মূল করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম উদ্যোগ না নেওয়ায় হাদিপুর যাদবপুর কালচারাল ইউনিটের প্রবীণ সদস্যরা উদ্যোগী হয়ে ওঠে ওই কাজে। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ওই দলের প্রত্যেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তার দু’ধারে বিপুল পরিমাণে গজিয়ে ওঠা পার্থেনিয়াম কাটতে শুরু করে। পরে সেগুলো এক জায়গায় জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে একেবারে ধ্বংস করে ক্ষতিকারক পার্থেনিয়াম। প্রবীণ সদস্যদের কথায়, পাঁচ বছর যাবৎ তারা পার্থেনিয়াম গাছ কাটার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। রোজ ওই প্রবীণ সদস্যরা হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে যায়। এরপর রাস্তার দুপাশে থাকা পার্থেনিয়াম গাছ কাটেন। হাড়োয়া রোডের দুপাশে যেখানেই ওই গাছ দেখতে পান, সেগুলোই তারা কেটে ফেলেন। কারণ পার্থেনিয়াম একটি বিষাক্ত গাছ। ওই গাছের জন্য যাতে কোন পশু পাখি এমনকি মানুষের কোনোরূপ ক্ষতি না হয় তাই পরিবেশ থেকে ওই গাছকে নির্মূল করার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। তারা এও বলেন যে প্রশাসনের লোকজন কি করবে না করবে তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। পঞ্চায়েতের ভরসা না করে নিজেদের স্বার্থে স্থানীয়দেরই ওই গাছ নির্মূল করার কাজে উদ্যোগী হতে হবে। গাছ কাটা প্রসঙ্গে তারা জানান, গাছ অবশ্যই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কিন্তু কিছু কিছু গাছ পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। পার্থেনিয়াম গাছ তাদের মধ্যে একটি। ওই গাছ রাস্তার দু পাশে যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে, তাতে জীবকুল রোগ ব্যাধিতে দ্রুত আক্রান্ত হবে। তাই প্রতিবছরই তারা দলবেঁধে এই কাজ করে থাকেন। মানুষ যাতে সুস্থ সবল এবং রোগমুক্ত হয়ে বাঁচতে পারে তার জন্যই তাদের ওই কর্মকাণ্ড বলে জানান প্রবীণ সদস্যের দল।








