সীমান্তে প্রয়োজন আরও কঠোর নিরাপত্তা
বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান জিনিসপত্র অবৈধভাবে পাচারের ঘটনা প্রায়শই উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। সোনা, রূপার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রানী পাচারের জন্য পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। পাচারকারীদের পাচার কার্যের কিছু ঘটনা তুলে ধরা হল জনসম্মুখে। প্রথমেই আসা যাক ভারত বাংলাদেশের পেট্রাপোল বন্দরের কথায়। যেখানে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন ভারত বাংলাদেশের মধ্যে চলে পন্য আদান প্রদানের কারবার। একইসাথে চলে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত পরিষেবা। এত নিরাপত্তার আড়ালেও চলছে পাচার চক্রের কারবার। এমনই ঘটনা ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। পেট্রাপোল বন্দর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমান সোনার বিস্কুট। গ্রেফতার করা হয় এক ট্রাক চালককে। বিএসএফ সূত্রে জানা যায় ট্রাকের মধ্যে লাগানো সাউন্ড বক্সের মধ্যে সোনা ভরে পাচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল এক আন্তর্জাতিক ট্রাক চালক। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার সময় ট্রাকটিতে তল্লাশি চালায় বিএসএফ। তল্লাশি চালিয়ে ওই বক্সের ভেতর থেকে ৩০ টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করে বিএসএফ এর ১৪৫ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানরা। একইসাথে ট্রাক চালককে আটক করে। ধৃত ট্রাক চালক উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁর বাসিন্দা প্রদীপ রায়চৌধুরী। উদ্ধারকৃত সোনার মূল্য আনুমানিক তিন কোটি ৯৩ লক্ষ ১০ হাজার ৭৫৮ টাকা বলে জানায় বিএসএফ। এ তো গেল পেট্রাপোল বন্দরের কথা। এবার আসা যাক উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের কথায়। স্বরূপনগরের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে যেমন অবাধে বাংলাদেশের নাগরিকরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে চলেছে প্রতিনিয়ত, তেমনই পাচারকারীদের কাছে স্বরূপনগর যেন হয়ে উঠেছে স্বর্গরাজ্য। কারণ স্বরূপনগরে রয়েছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কিছু চেকপোস্ট। হাকিমপুর, তারালি, আমুদিয়া সহ কৈজুর সীমান্ত এলাকায় পাচারকারীরা বর্তমানে হয়ে উঠেছে যথেষ্ট সক্রিয়। কোনোমতে বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে তারকাঁটা বেঁড়ার এপার ওপার করতে পারলেই মনের মতো নগদ অর্থ উপার্জন করা যায়। এই প্রলোভনেই পাচারকারীরা তাদের পাচার কার্যের জন্য বেছে নেয় স্বরূপনগরের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা। আসা যাক স্বরূপনগরের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী চেকপোস্ট এলাকায় উদ্ধারকৃত সমগ্রীর কথায়। স্বরূপনগরের বিথারী হাকিমপুর পঞ্চায়েতের হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ১২ পিস সোনার বিস্কুট সহ মইনুর খান নামে এক পাচারকারীকে আটক করে হাকিমপুর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১১২ ব্যাটেলিয়ন এর জওয়ানরা। বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বাসের মধ্যে সোনার বিস্কুট নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করার চেষ্টা করছিল পাচারকারী। সেই সময় তাকে দেখে বিএসএফ এর ১১২ নম্বর ব্যাটেলিয়ন এর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের সন্দেহ হয় এবং ওই ব্যাক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালায় তারা। এরপরই অন্তর্বাসের মধ্য থেকে ১২ পিস সোনার বিস্কুট উদ্ধার করে বিএসএফ এর জওয়ানরা। যার ওজন ১ কেজি ৩৯৭ গ্রাম, বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ৮৭ লক্ষ টাকা। এদিকে স্বরূপনগরের বিথারী সীমান্ত থেকে পাচারের পূর্বেই বিপুল পরিমাণ রূপার গহনা উদ্ধার করে ১১২ নম্বর ব্যাটেলিয়ানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, একটি মোটর বাইকে করে স্বরূপনগরের বিথারী চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই বিপুল পরিমাণ রূপার গহনা বাংলাদেশে পাচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল এক পাচারকারী। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে দাঁড়াতে বলে। বিপদ বুঝে মোটর বাইক ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চালক। পরবর্তীতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা মোটর বাইকটিতে তল্লাশি চালিয়ে বাইকের এয়ার ফিল্টারের মধ্য থেকে ২ কেজি ৬৯০ গ্রাম রূপার গহনা উদ্ধার করে। একইসাথে বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করে। পাশাপাশি স্বরূপনগরের গাবোর্ডা সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ৩ কেজি ৭৪০ গ্রাম রুপোর গহনা সহ আটক হয় এক মহিলা পাচারকারী। ওই মহিলা পাচারকারী তার হাত ব্যাগের মধ্যে ৩ কেজি ৭৪০ গ্রাম রুপোর গহনা লুকিয়ে সীমান্ত এলাকার দিকে যাচ্ছিল। মহিলাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় বিএসএফ এর জওয়ানরা তাকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে ওই বিপুল পরিমাণ রূপার গহনা। একইসাথে আটক করে ওই মহিলাকে। পরবর্তীতে স্বরূপনগরের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত সোনা, রূপা সহ বাজেয়াপ্ত করা বাইক তেঁতুলিয়া শুল্ক দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিএসএফ এর পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যে পলাতক বাইক চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে বিএসএফ এর গোয়েন্দা বিভাগ। এখন প্রশ্ন হল- শত্রুদের আক্রমণের হাত থেকে ভারতবর্ষকে রক্ষা করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যেক্ষেত্রে মোতায়েন থাকে প্রচুর সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্বেও ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় কিভাবে চলছে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ ও পাচার চক্রের কারবার? তবে কি সর্ষের মধ্যেই রয়েছে ভুতের বসবাস! সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এরূপ কর্মকান্ড চলতে থাকলে ভারত তথা ভারতবাসীরা সুরক্ষিত থাকবে তো! বহিঃশত্রুদের হাত থেকে ভারতকে রক্ষা করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ এর নজরদারি আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি ভারতীয় নাগরিকদের।
সীমান্তে প্রয়োজন আরও কঠোর নিরাপত্তা
0%








