গাছ কাটার বিরুদ্ধে জেলা শাসককে ডেপুটেশন
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সবুজে ঘেরা বারাসাত ব্যারাকপুর সংযোগকারী রাস্তা আজ উন্নয়নের অজুহাতে বনদপ্তরের গাফিলতিতে প্রায় শূন্য হতে বসেছে। অবশিষ্ট যে গাছগুলি আছে তা প্রায় কয়েক দশকের পুরনো। এই রাস্তায় আজও দেখতে পাওয়া যায় অশ্বত্থ, শিরিষ, তেতুল, মেহগনির মত গাছ যার তলায় সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পথচারী মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এই বারাসাত ব্যারাকপুর রোডের হেলা বটতলা মোড়ে একটি অশ্বত্থ, খেজুর ও কৃষ্ণচূড়া গাছ কাটার প্রয়াস শুরু হলে; কিছু ছাত্র যুবর চোখে পড়াতেই তা আটকে দেয়া হয়। অশ্বত্থ ও খেজুর গাছ কাটা পড়লেও কৃষ্ণচূড়া গাছটিকে আটকে দেওয়া হয়। কোনরকম সরকারী অনুমতি ছাড়াই বেআইনি পদক্ষেপে এই গাছগুলি কাটছিল - এমন খবর চাউর হওয়া মাত্রই এলাকার কিছু মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে জুনিয়র ডি এফ ও ঐ তিনটি গাছ কাটার অনুমতিপত্র যা দেখায় সেটি ভুয়ো বলে পরে জানা যায়। এবং মিথ্যে তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা হওয়ায় এলাকার মানুষ তৎপরতার সঙ্গে ওই গাছ কাটার বিরুদ্ধে সই সংগ্রহ করে বারাসাত বনদপ্তরের অফিসে জমা দেয়। এর ফলে আপাতত প্রাচীন তেতুল গাছটি রক্ষা পেলেও শোনা যাচ্ছে উন্নয়নের অজুহাতে গোটা রাস্তার শতাব্দি প্রাচীন সবকটি গাছই নাকি কাঁটা পড়বে। বর্তমান বিশ্বের প্রবল দাবদাহে এই গাছ কাটা যে আজকের সমাজকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই অশনি সংকেত এ আতঙ্কিত হয়ে এলাকার স্থানীয় যুব সমাজ সমস্ত মানুষের কাছে গাছ কাটার বিরুদ্ধে একত্রিত হবার আবেদন জানায়। সেই উপলক্ষে ১৮ই এপ্রিল বিকেল সাড়ে চারটেয় বারাসাতের হেলাবটতলা এলাকায় তেঁতুল গাছের তলায় এক গন কনভেনশনের আয়োজন করে। যে কনভেনশনে বহু মানুষের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কোনো ভাবেই আর কোনো গাছ কাটতে দেওয়া যাবে না। উপস্থিত সমস্ত মানুষের মুখে একটা কথাই প্রতিধ্বনিত হয় যে কোন অবস্থাতেই গাছ কাটতে দেওয়া যাবে না উন্নয়নের প্রয়োজনে বিকল্প পথ খুঁজে বের করে সুস্থায়ী উন্নয়নের পথে হাঁটা দরকার যাতে পরিবেশের সুস্থতা ও আগামী প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত হয়। আজকের এই গণ কনভেনশনে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুলাল চ্যাটার্জী, জয়গোপাল দে, অধ্যাপক সুখেন্দু সরকার, শিক্ষিকা কোয়েল মাইতি, পরিবেশ কর্মী শিক্ষক অরিন্দম দে, যশোর রোডের গাছ বাঁচানোর আন্দোলন এর অন্যতম মুখ অনির্বাণ দাস, অর্পিতা, গণ আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব সুলগ্না ম্যাডাম প্রমূখ। কর্মসূচিতে হাজির হওয়া বিভিন্ন জায়গার থেকে আসা এই সব বিশিষ্ট মানুষের মধ্যে সৌরভ মিত্র মুস্তাফি, অর্কপ্রভ, নেহা, রাজীব, অনুপ, ঋতমেধাদের গানে কবিতায় ও ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে সবুজ বাঁচানোর আকুতি ফুটে ওঠে। এই কনভেনশনে জানিয়ে দেওয়া হয় যে আগামী ২৫ এ এপ্রিল দুপুর দুটোয় জেলা শাসকের কাছে এই গাছ কাটা রুখবার সুপ্রিম কোর্টের জনবিরোধী আদেশের বিরুদ্ধে ডেপুটেশন দেওয়ার বার্তা।
গাছ কাটার বিরুদ্ধে জেলা শাসককে ডেপুটেশন
0%








