তৃণমূলের জাতীয় স্বীকৃতি বাতিলে রাজ্য তোলপাড়
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে যখন উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ঠিক সেই সময় রাজনীতির ভবনে বিরাট ধাক্কা খায় তৃণমূল কংগ্রেস। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে তৃণমূল। বর্তমানে কেবল আঞ্চলিক দল হিসেবেই গণ্য হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৬ সালে বাংলা ও উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যের রাজ্য দলের স্বীকৃতি পায় তৃণমূল। তারপরেই তৃণমূলকে জাতীয় দলের মর্যাদা দেয় নির্বাচন কমিশন। সাত বছরের মাথায় সেই স্বীকৃতি হারালো তৃণমূল। অরুণাচল প্রদেশ ও মনিপুরের রাজ্য দলের মর্যাদা হারায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেজন্য জাতীয় দলের মর্যাদা লাভের মাপকাঠিতে ঠাঁই হয়নি শাসক দলের। জাতীয় দলের স্বীকৃতির সাংবিধানিক কিছু নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম পালনে ব্যর্থতার কারনেই জাতীয় দলের তকমা থেকে বাদ পড়ে যায় তৃণমূল। যা নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে জানান, জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়া ও হারানোর পিছনে একটা সাংবিধানিক নিয়ম আছে। ভারতবর্ষের ইলেকশন কমিশন নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাদের নিয়মানুযায়ী সেটা পর্যবেক্ষণ করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় বা রাজ্য স্তরের স্বীকৃতি পায়। জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়ার জন্য সংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ৩টি শর্তের অন্তত একটি পূরণ করতে হয়। ১. লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে চারটে রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট সেই রাজনৈতিক দলকে পেতে হবে। ২. লোকসভা নির্বাচনে একটা রাজ্য থেকে চারটি করে সংসদ সদস্য অর্থাৎ তিনটে রাজ্য থেকে কমপক্ষে ১১ টি আসনে জয়লাভ করতে হবে ও আগের জেতা আসনের অন্তত ৪ টি পূনরায় জিততে হবে। ৩. অন্তত ৪ টি রাজ্যে রাজ্য দলের তকমা পেতে হবে। ২০১৬ সালে মণিপুরে দু-এক জায়গায় জয়লাভ করে সেই মর্যাদা পেয়েছিল তৃণমূল। যেটা বর্তমানে আর নেই। ১১ জন সদস্যও নেই আর ৬ শতাংশ ভোটও নেই। সেই কারণেই সংবিধান অনুযায়ী তৃণমূল জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে। এ নিয়ে দুঃখ করার কিছু নেই আবার আনন্দ করারও কিছু নেই। কারণ এটা সংবিধানের নিয়ম আর এই নিয়ম মেনেই চলতে হবে বলে সাফ জানান তিনি। জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে তৃণমূল, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ কথা ঘোষণার পর থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যে প্রতিক্রিয়া দেয় তা হল, নির্বাচন কমিশন তার নিয়ম অনুযায়ী সোমবার ঘোষণাটি করেছেন। তবে শুধুমাত্র তৃণমূল নয়, এনসিপি সিপিআই-ও জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণাকে তো উপেক্ষা করা যাবে না, তাই মান্যতা দিতেই হবে। পাশাপাশি তৃণমূল জানায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামটাই যথেষ্ট, চেনা বামুনের কখনো পৈতা লাগেনা। তৃণমূল কংগ্রেসের দলটি মা, মাটি, মানুষকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। এরপর নাম না করে সরাসরি কেন্দ্রকে তোপ দাগায় তৃণমূল। তাদের কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্ব সাধারনের জন্য কাজ করে। অতএব, বাংলার মাটিতে তিনি যতদিন আছেন, ততদিন দিল্লির মসনদে থাকা সাম্প্রদায়িক ও সর্বনাশের সরকারের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য তিনি একাই যথেষ্ট। শুধুমাত্র সর্বভারতীয় তকমা থাকলেই যে সেই মোকাবিলা করা যাবে এমনটা কখনোই নয় বলে জানায় তৃণমূল।






