Banner Top

তৃণমূলের গোষ্ঠিকোন্দলের জেরে উত্তেজনা দেগঙ্গায়

                                            দাবদাহ লাইভ,  বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ সামনেই হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছে সবকটি রাজনৈতিক দল। এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয় কোনো দল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃণমূলের করা দূর্নীতির  জেরে ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ বঙ্গবাসী। ক্রমশই তা প্রকাশিত হয়ে চলেছে। ফলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের সুর চড়াতে দেখা যায় রাজনৈতিক দলগুলিকে। প্রকাশ্যে উঠে আসা থেকে বাদ যায়নি তৃণমূলের দলীয় কোন্দল। এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা ব্লকের চাকলা পঞ্চায়েত এলাকায় প্রকাশ্যে আসে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। যার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মিলন দেবনাথকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেগঙ্গার চাকলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অঞ্চল সভাপতি শুক্রবার চাকলা ফাঁড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। সেই সময় স্থানীয় ফারুক উজ্জামান ওরফে বাবলু এবং ইকবাল হোসেন নামে দু’জন দুষ্কৃতি তার উপর চড়াও হয়। তাকে মারধর ও গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। এরপর মিলন দেবনাথকে উদ্ধার করে বিশ্বনাথপুর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেবার পর তিনি ঘটনার বিবরন জানিয়ে দেগঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি, ফলে চাকলা ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় মিলন দেবনাথ সহ তার অনুগামীরা। এদিকে তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাবলু এবং ইকবাল হোসেন। তাদের দাবি মিলন দেবনাথ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নয়। তিনি বিজেপির হয়ে দালালি করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে তার বুথ থেকে তৃণমূল কখনো জয়লাভ করতে পারেনি। তিনি একদম মিথ্যে ষড়যন্ত্র করে তাদের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। তার উপর কেউ হামলা চালায়নি, বরং তিনিই এলাকায় তোলাবাজি করে খান। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় তৈরি হয় ব্যপক শোরগোল। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চাকলা এলাকা। মিলন বাবুর কথায়, এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে তিনি চা খাচ্ছিলেন। তখন বাবলু ও ইকবাল নামে স্থানীয় চাকলা অঞ্চলের দু’জন কুখ্যাত সমাজ বিরোধী, যারা ঠিকারাজ ও তোলাবাজির মতো বিভিন্ন উপায়ে অর্থ ইনকাম করে। ওই দুই দুষ্কৃতি তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এমনকি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে তারা। সেই সময় পুলিশ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে বলে তাকে। পুলিশের কথা অনুযায়ী থানায় গিয়ে ওই দুই দুষ্কৃতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ করার পরেও অভিযুক্তরা এখনো অধরা। অবিলম্বে এলাকায় থাকা ওই দুই দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করতে হবে বলে দাবি তার। অন্যদিকে ফারুক নিজেকে বুথ কনভেনার বলে দাবি করে বলেন, মিলন বাবু চাকলা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি কখনোই নয়। ওনার বুথে হওয়া সমস্ত নির্বাচন যদি খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে উনি একজন বিজেপি সাপোর্টার। চায়ের দোকানের সামনে এসে তারা অতর্কিতে হামলা করেনি। বরং তাদের ওই পথ দিয়ে যেতে দেখে মিলন বাবু ও তার অনুগামীরা ক্রিটিসাইজ করছিলো। ফলে কথা কাটাকাটি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোন হামলা হয়নি। পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ঠিকারাজ ও তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং মিলন বাবু নিজেই কিছু করে না, সারাদিন কেবল ঘোরে আর তোলাবাজি করেই খায়। তারা ঠিকাদারি করে অর্থ উপার্জন করে ঠিকই, কিন্তু মিলন বাবু তাদের কাছ থেকেও টাকা খায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদেই চাকলা ফাঁড়ির সামনে এদিন দুই পক্ষের থেকে চলে বিক্ষোভ। ঘটনাটি অবশ্য সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি স্থানীয়দের।

User Review
66.5% (2 votes)
Banner Content
Dabadaha is a News Media House under the Brand of Dabadaha Live ( দাবদাহ লাইভ) via Website as WEB NEWS

0 Comments

Leave a Comment