উদ্ধার বিপুল পরিমাণ আধার, ভোটার ও রেশন কার্ড
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অরিজিনাল আধার, ভোটার ও রেশন কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ নথি অবৈধভাবে মজুত রাখার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হাবরা থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার হাবরা থানার অন্তর্গত আঁটুলিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় দুই যুবক খেলার ছলে গৌরাঙ্গ সেন নামে এক ব্যক্তির রান্নাঘরে যায়। সেখানে উনুনের পাশে তারা শতাধিক আধার কার্ড পড়ে থাকতে দেখে। যুবকেরা সেখান থেকে কিছু কার্ড সংগ্রহ করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই খবর দেওয়া হয় হাবরা থানায়। খবর পেয়ে হাবরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ অরিজিনাল আধার,রেশন ও ভোটার কার্ড। এরপর ওই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো বস্তা বন্দি করার পাশাপাশি ওই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় হাবরা থানার পুলিশ। আঁটুলিয়ার বাসিন্দা বছর ৪৫ এর গৌরাঙ্গ শীলের বাড়ি থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় এদিন রাতে থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে গৌরাঙ্গ জানায়, সে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তিলজলা থানা এলাকার তিলজলা পোস্ট অফিসের একজন কর্মী। উদ্ধারকৃত গুরুত্বপূর্ণ কার্ডগুলো বিলি করার উদ্দেশ্যে সে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। সময় না হওয়ার কারণে সেগুলো বিলি করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার তিলজলা পোস্ট অফিসে বিষয়টি জানানো হলে সাব পোস্টমাস্টার তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত গৌরাঙ্গ সেন এর বিরুদ্ধে কেশ ফাইল করে এবং তাকে গ্রেফতার করে হাবরা থানার পুলিশ। পুলিশ এও জানায় গৌরাঙ্গ মুলত তিনজলা পোস্ট অফিসের ডিআরএমএল হিসাবে প্রায় ১২ বছর যাবত কাজ করছে। ধৃতের কাজ মূলত আধার, রেশন এবং ভোটার কার্ড মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইস্যু হওয়া ভোটার, আধার ও রেশন কার্ড ডেলিভারি না করে অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে মজুত করে রেখেছিল ধৃত। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৭১৭ টি আধার কার্ড, ১০৯ টি ডিজিটাল রেশন কার্ড ও ১৯ টি ভোটার কার্ড। তথ্য অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে সেগুলো উদ্ধার হওয়ায় গৌরাঙ্গকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেবার আবেদন জানিয়ে রবিবার ধৃতকে বারাসাত মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। এখন প্রশ্ন হল পোস্ট অফিসের সামান্য একজন অস্থায়ী কর্মীর বাড়িতে কিভাবে এলো বিভিন্ন জেলার ওই বিপুল পরিমান আধার কার্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ নথি? কেনই বা সে ওই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো নিজ বাড়িতে মজুত করেছিল, তার ওইরূপ কর্মকান্ডের পিছনে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, এমনই নানান প্রশ্নের উত্তরের সন্ধান তদন্ত সাপেক্ষে মেলা সম্ভব বলে পুলিশ সূত্রে খবর।








