নর্দমা থেকে ওঁ লেখাযুক্ত ধ্বজা উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা
বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ “ওঁ” লেখাটিকে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা সর্বদাই শ্রদ্ধা, ভক্তি ও অনন্য মর্যাদা দিয়ে থাকে। দেশ তথা রাজ্য জুড়ে পালিত হয় রামনবমী। সেই রামনবমী উপলক্ষে দেশ তথা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে “ওঁ” লেখাযুক্ত গেরুয়া ধ্বজা লাগানো হয়েছিল। মহা সমারোহে দিনটি পালিত হবার পাশাপাশি, এদিন বেশ কিছু এলাকায় ঘটে যাওয়া কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার চিত্রও উঠে আসে জনসম্মুখে। যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই “ওঁ” লেখাযুক্ত গেরুয়া ধ্বজা ড্রেনের মধ্য থেকে উদ্ধার হয়, যা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দত্তপুকুর থানার জুবিলীহাট এলাকা থেকে এমনই দৃশ্য ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। রামনবমী উপলক্ষে ওই এলাকায় লাগানো হয়েছিল “ওঁ” লেখাযুক্ত গেরুয়া ধ্বজা। ওই ধ্বজা খুলে ফেলাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতি। নর্দমা থেকে সেগুলি উদ্ধার হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিজেপির কর্মকর্তা সহ স্থানীয়রা। ফলে বঙ্গ রাজনীতিতে বাড়ে অস্বস্তি। এ বিষয়ে স্থানীয় দত্তপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি নেতৃত্ব। ধ্বজা খুলে ফেলার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে এক হাতে নেয় আমডাঙা বিজেপি মন্ডল ৩ এর সভাপতি জয়দেব পাল। তিনি বলেন, রামনবমী উপলক্ষে এলাকায় লাগানো হয় “ওঁ” লেখাযুক্ত গেরুয়া ধ্বজা। ওই এলাকায় একটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। সেই উপলক্ষে তৃণমূলের কোন এক বিশেষ অতিথি সেখানে উপস্থিত হবে। এই মর্মে তৃণমূলের স্থানীয় হার্মাদ বাহিনী ওই ধ্বজা গুলোকে খুলে নেবার জন্য বারংবার বিজেপি কার্যকর্তাদের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু তাদের কথায় “ওঁ” লেখাযুক্ত ধ্বজা গুলো যেহেতু কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, তাই সেগুলো তারা খোলেনি। আর এদিন সকালেই সকলের নজরে আসে এলাকাটি একেবারে ধ্বজাশূন্য। কেউ রাতের অন্ধকারে সেগুলি খুলে ফেলেছে। এরপরই থানায় লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। ঘটনার কথা জানা মাত্রই পুলিশকর্মীরা এলাকায় পৌঁছায়। এরপর একটি বাড়ির ছাদ থেকে ও রাস্তার পাশের নর্দমার উপরে থাকা কালভার্টের নীচ থেকে ওই ধ্বজার গোছা উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, যারা এখন তৃণমূল করছে তারা মানসিকভাবেই হিন্দু বিরোধী। হিন্দুদের পক্ষ থেকে যখনই “জয় শ্রীরাম” বলা হয়, হিন্দু ধর্মের কোনো আলোচনা হয়, তখনই যত যন্ত্রণা হয় তৃণমূলের। তাইতো “ওঁ” লেখাযুক্ত ধ্বজা খুলেছে তারা। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় শান্তি কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল, কিন্তু দত্তপুকুরে ওরাই শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে। বিজেপির কথা প্রসঙ্গে তৃনমুলের কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিষদীয় দলনেতা অমল কুমার বিষ্ণু জানান, রামনবমী বা যাই হোক, হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী সে যে রাজনৈতিক দলেরই কর্মীই হোক না কেন, কেউ “ওঁ” লেখাযুক্ত পতাকা নর্দমায় ফেলে দেবে, তা তিনি বিশ্বাস করেন না। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, দীর্ঘদিন যাবত বিজেপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ সর্বদাই ভারতের মতো সারা পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এবার ওরা ময়দানে নেমে পাকিস্তান পাকিস্তান স্লোগান তুলবে, নকল যুদ্ধ খেলবে আর সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি নষ্ট করার নামে দাঙ্গা লাগাবে বলে ঠিক করেছে। এটা বিজেপির করা একটি বড়সড় চক্রান্ত। কারন পতাকা কে বা কারা লাগিয়েছে আর কে বা কারা খুলেছে, তা তারা জানেন না। কিন্তু যারা “ওঁ” লেখাযুক্ত পতাকা লাগিয়েছিলেন তাদের তিনি সাধুবাদ জানান, এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানান তিনি। সকলের অলক্ষ্যে “ওঁ” লেখাযুক্ত ধ্বজা খুলে ফেলা ও নর্দমা থেকে সেগুলি উদ্ধার, বিষয়টি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের কাছে অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা বলে মত প্রকাশ করেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল সহ এলাকার ওয়াকিবহাল মহলও।







