পরিষেবা দিতে আমজনতার মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, মহ: মফিজুর রহমানঃ ‘নমস্কার, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলকে রমজান মাস ও বাংলা নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। দুয়ারে সরকার শুরু হতে চলেছে ১ এপ্রিল থেকে। চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। সকলে ভাল থাকবেন।’ ঠিক এভাবেই বুথে বুথে দুয়ারে সরকারের জন্য ফোনের মাধ্যমে প্রচার করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আনুষ্ঠানিকভাবে দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মে মাসেই পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে বাংলায়। এরই মধ্যে রাজ্যে ফের শুরু হতে চলেছে ‘দুয়ারে সরকার’। ষষ্ঠ পর্যায়ের এই দুয়ারে সরকার শিবির আজ, পয়লা এপ্রিলে শুরু হয়ে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এবার দুয়ারে সরকার শিবির থেকে বঙ্গবাসীকে ৩২ টি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে আমজনতার মোবাইলে আসছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন কল। বুধবার বিকাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনকল শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, আপাতত রাজ্যের প্রায় ৬ কোটি মানুষের কাছে আইভিআরএস (ইন্টারঅ্যাকটিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম) পদ্ধতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনকল যাবে। ষষ্ঠ পর্যায়ের দুয়ারে সরকারে’র আরেকটি চমক হল ড্রপবক্স বা অভিযোগ জানানোর বাক্স। শিবিরে পরিষেবা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে ড্রপবক্সে জমা দিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া ড্রপবক্সে জমা দেওয়া যাবে নিজস্ব মতামতও। এবার দুয়ারে সরকার শিবিরে মোট ৩২ টি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘মেধাশ্রী’, ‘বিধবা ভাতা’, ‘ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড’ এবং ‘বাংলা কৃষিসেচ যোজনা’। সূত্রের খবর, এবার শিবির থেকে কাউকেই ফেরানো যাবে না, এমনটাই নির্দেশ নবান্নের। ৩২ টি প্রকল্পের কোনও না কোনও সুবিধা উপভোক্তাদের দেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে দুয়ারে সরকার বুথে বুথে ছাড়াও ২৩ টি জেলায় দুয়ারে সরকারের ডিজিটাল ট্যাবলো ঘুরবে। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার জন্য ডিজিটাল ট্যাবলোতে ৪০ মিনিটের ভিডিও দেখানো হবে। এই ভিডিওর নাম ‘উন্নয়নের পথে ১১ বছর’। ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজ থেকে আধার কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী’র মতো ৩২ রকমের সুবিধা মিলবে এবারের দুয়ারে সরকার শিবির থেকে। এছাড়াও মিলবে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান। তার জন্য প্রতিটি শিবিরে থাকবে ড্রপবক্স বা অভিযোগ জানানোর বাক্স। শিবিরে পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যাসহ যে কোনও ধরনের অভাব-অভিযোগের কথা লিখে সেখানে জমা দিতে পারবে আমজনতা। সূত্রের খবর, প্রতিটি শিবিরে জমা পড়া অভিযোগে সরাসরি নজরদারি চালাবে নবান্ন। ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি শিবিরে জমা পড়া অভিযোগগুলি রাজ্যস্তরে আনিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ জানতে এমন অভিনব পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের।









