হলদি নদীর উপর ব্রীজ – কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী
দাবদাহ লাইভ, পুর্ব মেদিনীপুর, অক্ষয় গুছাইতঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেখান থেকে জিতলে নন্দীগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে হলদিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী ব্রিজ বানিয়ে দেবেন হলদি নদীর উপরে।কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে প্রথমে নির্বাচনী আধিকারিকরা তাকে বিজয়ী ঘোষণার পরেও কিছুক্ষণ লোডশেডিংয়ের পরে আচমকা বিজয়ী ঘোষণা করা হয় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে। এখনো পর্যন্ত নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে মমতার দায়ের করা ইলেকশন পিটিশনের শুনানি ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তা সত্ত্বেও ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে না গিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলদি নদীর উপরে ব্রিজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন মমতা। গত বছর রাজ্য বাজেটে এই ব্রিজ তৈরির বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন মমতা। তারপরেও প্রথা মাফিক ডিটেইল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরি করিয়ে এবারে কাজ শুরুর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে নন্দীগ্রামের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হলদি নদীর উপরের ব্রিজ। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে বন্দরনগরী হলদিয়ার সঙ্গে সহজে যোগাযোগের জন্য হলদি নদীর উপরে ব্রিজ বানানোর কাজ শুরু করছে মমতার সরকার। আজ নন্দীগ্রাম বাসীর জন্য মমতার এই উপহারের কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, এই সেতুটি তৈরি হয়ে গেলে নন্দীগ্রাম-সহ গোটা পূর্ব মেদিনীপুরের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক পরিস্থিতি বদলে যাবে। পূর্ব মেদিনীপুরবাসী তথা নন্দীগ্রামবাসীর জন্য বড় কাজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে হাসপাতাল, তমলুক-দিঘা রেল যোগাযোগ-সহ নানা কাজ করা হয়েছে। নতুন বছরে এবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হলদিয়া-নন্দীগ্রামের মধ্যে সেতু তৈরি করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ডিপিআর তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। একটু সময় লাগবে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপকার হবে। প্রসঙ্গত, হলদি নদীর এক প্রান্তে নন্দীগ্রাম। অপর প্রান্তে বন্দরশহর হলদিয়া। এখানে হলদিয়া-নন্দীগ্রাম যাতায়াত করতে হলে খেয়া পারাপার করতে হয়। না হলে ঘুরপথে অনেকটা যেতে হয় সড়ক পথে। কারণ হলদি নদীতে ভাটা পড়ে গেলে খেয়া পারাপার করা সম্ভব হয় না দিনের সব সময়। এই সেতু হয়ে গেলে মানুষ যেমন কম সময়ে পৌঁছতে পারবে। তেমনই আবার পণ্যবাহী ট্রাক-লরিকে ঘুরপথে বাড়তি সময় ও জ্বালানি ব্যয় করে যেতে হবে না। মানুষ দু’ভাবেই যাতায়াত করতে পারবে। খেয়া এবং সেতু দিয়ে। কম সময়ে কর্মস্থলেও পৌঁছনো সম্ভব হবে। ফেরি পরিষেবায় অনেক সময় যাত্রী সুরক্ষা মানা হয় না। নন্দকুমার দিয়ে ঘুরে যেতে হয় অনেকটা সময় ব্যয় করে নন্দীগ্রামে। এটাই এখন বিকল্প পথ। সেতু তৈরি হলে সময়-খরচ দুই-ই বাঁচবে।









