আবাস যোজনায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রধানের বিরুদ্ধে
দাবদাহ লাইভ, পুর্ব মেদিনীপুর, অক্ষয় গুছাইতঃ আবাস প্রকল্পে ঘর দেওয়ার বদলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। এই টাকা নেওয়ার কথা কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান। পুর্ব মেদিনীপুর জেলার ভূপতিনগর থানার অন্তর্গত ভগবানপুর-২ ব্লক খেজুরি বিধানসভার আওতাধীন। এখানকারই গড়বাড়ি-২ গ্রামপঞ্চায়েতে আবাস যোজনায় প্রকৃত প্রাপকদের থেকে গ্রামপঞ্চায়েত থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবাস যোজনার বাড়ি প্রাপকদের থেকে এমন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান অঞ্জনা মণ্ডল। তাঁর যুক্তি, গ্রামপঞ্চায়েতের তো আর নিজস্ব আয় নেই। আমরা গ্রামপঞ্চায়েতের উন্নয়নকল্পে এই টাকা নিচ্ছি। এই টাকার বদলে আবার রসিদও দিচ্ছে পঞ্চায়েত। এক উপভোক্তা জানান, আবাস যোজনার তালিকায় নাম আসে। আমাদের ঘর পাওয়ার কথাও ছিল। পঞ্চায়েতে কাগজপত্র জমা দিতে গেলে আমাদের বলা হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে দিতে হবে। না হলে কাগজে সই করবে না। আমরা জানতে চাইলাম কেন এরকম হবে? তখন বলছে ডেভেলপমেন্ট ফি। আমরা হাজার করে দিই। প্রধান অঞ্জনা মণ্ডলের কথায়, আমরা এই গ্রামপঞ্চায়েতের উন্নয়নের জন্য টাকা নিয়েছি। এলাকায় ঢালাই রাস্তার কাজ ৩০ শতাংশ হয়েছে। বাকি কাজ এখনও বাকি। সেসব জিনিস কিনতে টাকা লাগবে। তাই মানুষের কাছ থেকে দান হিসাবে নিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামপঞ্চায়েত থেকে রসিদও দিয়েছি। এই টাকা অ্যাকাউন্টস বিভাগে জমাও হয়ে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। অডিট থেকে শুরু করে সবই হচ্ছে।” তবে শুধু আবাস যোজনা নয়, পঞ্চায়েত থেকে অন্যান্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই ‘দান’ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন পঞ্চায়েত প্রধান। এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা তরুণ মাইতি বলেন, এটা আপনাদের কাছেই শুনছি। কোনও এক প্রধান এটা করছেন। যদি তিনি করে থাকেন নিশ্চিতভাবে অন্যায় করছেন। কারণ, আমরা তৃণমূলের কর্মীরা বিশ্বাস করি সমস্ত সরকারি প্রকল্প মানুষের প্রাপ্য। সেখানে কোনও উত্কোচ গ্রহণের জায়গাই নেই। প্রধান এটা করলে এটা অন্যায় করছেন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।








