স্বাস্থ্য ভবনে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ২
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ স্বাস্থ্য ভবনে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে গ্রেফতার দুই মহিলা। অভিযুক্ত দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে বিধান নগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায় কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা ফুইরা শেখ নামে এক ব্যাক্তি ২৮ তারিখ বিধান নগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে এই মর্মে যে কিছুদিন পূর্বে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা সুরজিৎ মন্ডল নামে এক ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ হয় তাঁর। চাকরির সন্ধানে রয়েছে ফুইরা, বাক্যালাপের মধ্য দিয়ে জানতে পারে সুরজিৎ। এরপর স্বাস্থ্য ভবনে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ফুইরার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নেয় সে। চলতি মাসের ২৭ তারিখ তাঁর কাছে একটি মেইল আসে। মেইল মারফত সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে জমা দেবার জন্য ২৮ তারিখ প্রয়োজনীয় নথি সহ তাঁকে হাজির হতে বলা হয়। মেইলে উল্লেখিত দিন ও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছায় সে। সেখানে দু’জন মহিলা তাঁর সাথে যোগাযোগ করে। তারা ফুইরার কাছ থেকে সমস্ত নথিপত্র নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের ভেতরে যায়। সেখানের রেজিস্টার খাতায় ওই দুই মহিলা ভুয়ো নাম দিয়ে স্বাক্ষর করে। পরে স্বাস্থ্য ভবন থেকে বেরিয়ে ফুইরার চাকরি হয়ে গেছে বলে জানায় তারা। একইসাথে চাকরির ব্যাবস্থা করে দেবার জন্য ৫০ হাজার টাকা ফুইরাকে দিতে হবে বলে জানায়। টাকার কথা শুনে সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তির। ছুটে গিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। একইসাথে তাঁর প্রাপ্ত মেইলটিও দেখায়। সেখান থেকেই ওই ব্যাক্তি জানতে পারে প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েছে সে। মেইল মারফত প্রতারণা করা হয়েছে তাঁর সাথে। এরপর তড়িঘড়ি বিধান নগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় পৌঁছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ফুইরা শেখ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য ভবন থেকেই এদিন রিয়া চৌধুরী এবং জয়ন্তী চৌধুরী নামে দুই মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত ওই দুই মহিলা পানশালায় নর্তকীর কাজ করতো। অর্থের বিনিময়ে কোন এক ব্যক্তি ধৃতদের দিয়ে ওই কাজ করিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে জানতে পারে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বিধান নগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ধৃতদের বিধান নগর আদালতে তোলা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ওই চক্রের মূল পান্ডা ও সুরজিৎ মন্ডলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বিধান নগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ।








