বেহাল দশায় শ্রীপুর আইসিডিএস স্কুল
দাবদাহ লাইভ, বনগাঁ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ দীর্ঘদিন যাবত চাল বিহীন বেহাল অবস্থায় থাকা একটি স্কুলে ক্ষুদে শিশুদের নিয়ে চলছে পড়াশোনা ও রন্ধন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি খাদ্য গ্রহণের পর্ব। এরূপ কর্মকান্ডের জন্য সর্বদাই এক অজানা আশঙ্কায় থাকে স্কুল কর্মীরা। বিষয়টি প্রশাসনকে বারংবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ স্কুল কর্মীদের। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটা থানার অন্তর্গত ইছাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীপুর এলাকায় থাকা আইসিডিএস স্কুলের বেহাল দশার কথাই বর্নিত হল। শ্রীপুর এলাকার অবস্থিত একটি আইসিডিএস স্কুল যেন করুণ হৃদয়ে নয়ন মুদিয়া রহিয়াছে তাহার বেদনা প্রকাশের অপেক্ষায়। আসলে শ্রীপুর এলাকার দিশারি ক্লাব পার্শ্বস্হ পাকা দেওয়াল যুক্ত আইসিডিএস স্কুলটিতে রয়েছে দুটি কক্ষ। একটি কক্ষে চলে ওই স্কুলে আগত ক্ষুদে শিশুদের পড়াশোনার পর্ব অন্য কক্ষে চলে সেই শিশুদেরই জন্য রন্ধন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি খাদ্য গ্রহণ পর্ব। পড়াশোনার কক্ষের চালটি ত্রিপল দিয়ে আবৃত থাকলেও রন্ধন সহ খাদ্য গ্রহণের কক্ষে দীর্ঘদিন যাবত চাল না থাকায় দর্শিত হয় উন্মুক্ত গগন। দীর্ঘদিন যাবত এমন বেহাল দশায় থাকা স্কুলটি নিয়ে একেবারেই উদাসীন প্রশাসন এমনই অভিযোগে মুখর হয়ে ওঠে ওই স্কুলের কর্মীরা। তাদের কথায় আমফান ঝড়ে স্কুলটির চাল সম্পূর্ণ উড়ে যায়। ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকে স্কুলটি। পরবর্তীতে স্কুলটি চালু করতে সমস্যার সমাধান হিসেবে পড়াশোনার কক্ষটি ত্রিপল দিয়ে আবৃত করার পর পুনরায় চালু হয় স্কুল। কিন্তু অনাবৃত অবস্থায় রয়ে যায় রন্ধন প্রক্রিয়াকরনের কক্ষটি। যেখান থেকে অনায়াসেই মুক্ত গগন দর্শিত হয়। শুকনো ব্যতীত বর্ষার সময় আরও বিপুল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। ওই কক্ষে রন্ধন ও খাদ্য গ্রহণ পর্বের সময় খাবারে বিষাক্ত কিছু পড়ে ক্ষুদে কোনো শিশুর কিছু হলে তার দায়ভার কর্মীদের উপর বর্তাবে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তাঁরা। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েতে জানানো হয়েছে কিন্তু তারা কোনো গ্রাহ্য করেনি, এমনকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারংবার জানানো সত্বেও কোনোরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ কর্মীদের। সেখানে আগত স্থানীয় ক্ষুদে শিশুদের কথা মাথায় রেখে অনতিবিলম্বে স্কুলটির সমস্যা সমাধানের যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক প্রশাসন এমনই আর্জি জানায় স্কুল কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান শংকরী পাল জানান পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ওই স্কুলের জন্য সাধ্য অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। ত্রিপলও দেওয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ তাঁরাই গ্রহণ করবে বলে সাফ জানান তিনি। যেখানে সর্ব ক্ষেত্রেই গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য বারতি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেখানে ওই আইসিডিএস স্কুলটির এরূপ চরম অব্যবস্থার নিরসন কবে হয় তা দর্শনের প্রতীক্ষায় স্কুল কর্মী সহ এলাকাবাসী।








