দেগঙ্গায় পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে কাটমানির পোস্টার
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে এক বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালীন রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পোস্টার পড়ে এলাকায়। ওই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। অস্বস্তিতে প্রধান। শনিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার অন্তর্গত নূরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনাথপুর এলাকা থেকে এমনই চিত্র উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। শনিবার দেগঙ্গার নূর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা উমা দাস এর বাড়িতে চলছিল তাঁর ছেলের বৌভাত অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগত আত্মীয় পরিজন বন্ধু বান্ধব সহযোগে তাঁর বাড়ি সংলগ্ন এলাকা হয়ে উঠেছিল একেবারে জমজমাট। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন এদিন রাতে প্রধানের বাড়ির অদূরে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তাঁরই বিরুদ্ধে একের পর এক ইস্যু তুলে কাটমানি ও দুর্নীতি সম্পর্কিত পোস্টার দেখা যায়। যেখানে লেখা ছিল অসৎ পথে দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে কাটমানি নিয়ে পাকা মোজাইক বাড়ি তৈরি করেছে প্রধান ও তাঁর স্বামী। প্রধানের বাড়িতে বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালীন এলাকায় প্রধান ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পড়া ওইরূপ পোস্টারকে ঘিরে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অস্বস্তিতে পড়ে যায় প্রধান ও তাঁর পরিবার। ওই পোস্টার প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান উমা দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান পোস্টারে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওটা একটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠানের দিনটিকে বেছে নিয়ে চক্রান্ত করে আত্মীয় পরিজন বন্ধু বান্ধবের কাছে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কলুষিত করার জন্যই ওইরূপ পোস্টার মেরেছে। পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে তিনি যদি সত্যিই দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকতেন তাহলে তাঁর ২২ জন মেম্বার আগে তাঁর ওই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হত। বৌভাতের অনুষ্ঠানের দিন আগত মানুষজন যখন আনন্দে মাতোয়ারা, ঠিক সেই সময় ওই পোস্টারকে ঘিরে এলাকায় শোরগোল শুরু হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়ে প্রধানের স্বামী নীলুপদ দাস। তিনি জানান বাড়িতে অনুষ্ঠানের দিন এমন ঘৃন্যতম কাজ যারা করেছে, তারা ইচ্ছাকৃত সকলের সামনে তাদের সম্মানহানী করার জন্যই ওইরূপ কাজ করেছে। বাড়ি তৈরী প্রসঙ্গে জানান তিনি ও তাঁর ছেলেরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করেন, তাই দুর্নীতি করে কাটমানি নিয়ে বাড়ি তৈরি করার কোন প্রশ্নই ওঠেনা। একইসাথে তিনি বলেন, দলের গোষ্ঠী কোন্দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন তারা। কোনোরূপ দূর্নীতির সাথে তারা যুক্ত নয় বলে দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।








