ডাকাতির ছক বানচাল, পুলিশের জালে ধৃত ৫
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বর্তমানে কর্মসংস্থানের অভাবে বিপুল পরিমানে বেড়ে চলেছে বেকারত্বের সমস্যা। ওই বেকারত্বের জ্বালায় জর্জরিত হবার ফলস্বরূপ চতুর্দিকে আত্মহননের মত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বেড়ে যাবার পাশাপাশি চুরি ডাকাতির মতো অসামাজিক কার্যকলাপও যেন মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে। আত্মহননের মত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পাশাপশি প্রায়শই রাতের অন্ধকারে বা পরিবারের সদস্যদের অবর্তমানে দোকান বা বাড়িতে ঘটে যাওয়া চুরি বা ডাকাতির মত বেশ কিছু অসামাজিক ঘটনা সংবাদমাধ্যমের দ্বারা সম্প্রচারিত হতে দেখা যায় জনসম্মুখে। ওইরূপ এক অসামাজিক কর্মে সফলতা অর্জন করতে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবার একটি ঘটনা সংবাদমাধ্যমের দ্বারাই তুলে ধরা হল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় ৫ জনের একটি ডাকাত দল। ডাকাতির ছক বানচাল করে ডাকাতির সরঞ্জাম সহ ডাকাত দলটিকে আটক করে এদিন বড়সড় সাফল্য অর্জন করে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ কোনো কিছু জানে না বা করতে পারে না এ কথা কিন্তু একেবারেই ভুয়ো, তারা সবকিছু জানে। শুধুমাত্র যদি তাঁরা তাদের ইচ্ছে শক্তিটাকে জাগ্রত করে তাহলেই সকল কর্মে সাফল্য অর্জন করতে পারে পুলিশ, এ ঘটনা তারই প্রমাণ দেয়। রবিবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার হাবরা থানার নিকটবর্তী হাবরা স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গোপন সূত্র মারফত এদিন রাতে হাবরা থানায় খবর আসে হাবরা স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকায় থাকা একটি সোনার দোকানের পেছনে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে বেশ কয়েকজন যুবক। খবর পাওয়া মাত্রই হাবরা থানার পক্ষ থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করে দ্রুততার সহিত ওই এলাকাটি প্রথমে ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর কিছু সময়ের ব্যবধানে ডাকাত দলটিকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয় ও দলে থাকা ৫ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গ্যাস কাটার, গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন সিলিন্ডার, শাবল ও লোহার রড উদ্ধার করে হাবরা থানার পুলিশ। ধৃতরা রাজস্থানের বানসারা জেলার বাসিন্দা সুরাজ চারপটা, হরিশ চারপটা, নিতিশ চারপটা, হরিশ ত্রিনামা ও বিকাশ দামোর। ওই পাঁচজনের মধ্যে একজন ঘটনার দুদিন আগে এলাকায় এসে পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো করে পরিদর্শন করে স্থান নির্বাচন করে যায়। সেইমতো কার্যসিদ্ধি করার উদ্দেশ্যে রবিবার তাদের নির্বাচিত স্থানেই পৌঁছায় তাঁরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে হাবরা থানার পক্ষ থেকে সোমবার ধৃতদের বারাসাত মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। এখন প্রশ্ন হল ধৃতরা কতদিন যাবত ওইরূপ অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত, কেনই বা ওইরূপ কর্মকান্ডের সাথে তাঁরা যুক্ত হয়েছে, সুূূদূর রাজস্থানের বাসিন্দা হয়ে হাবরায় ডাকাতি করতে এসেছিল কেন, এর পিছনে কি কোনো চক্র কাজ করছে, ধৃতরা কি রাজস্থান থেকে এদিন হাবরায় এসেছিল ডাকাতি করতে নাকি বাংলারই বুকে এদের বড়ো কোনো ঘাঁটি রয়েছে, যদি বাংলায় ধৃতদের ঘাঁটি থেকে থাকে তাহলে সেই স্থানটা কোথায়, পূর্বে কোনো স্থানে এমন কার্যকলাপ তাঁরা ঘটিয়েছে কিনা, অন্য কোনো চক্রের সাথে ধৃতরা যুক্ত কিনা, যদি ধৃতরা বড়ো কোনো চক্রের সাথে যুক্ত থেকে থাকে তাহলে তার মুল পান্ডা কে, পূর্বে ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় কোনোরূপ রেকর্ড আছে কিনা, এছাড়াও চলতি বছরে হাবরা থানা এলাকায় পরপর বেশ কটি চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনাগুলোর সাথে ধৃতরা কোনোভাবে জড়িত কিনা। তদন্ত সাপেক্ষে সমস্ত প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ প্রশাসন। এদিনের ঘটনায় সুদূর রাজস্থান এর বাসিন্দা হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ছক কষে ডাকাতি করতে আসায় রীতিমতো স্তম্ভিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ ওয়াকিবহাল মহলও।








