বিনপুরে চপ ভাজলেন মুখ্যমন্ত্রী
দাবদাহ লাইভ, ঝাড়গ্রাম, অক্ষয় গুছাইতঃ বেলপাহাড়ি থেকে ঝাড়গ্রাম ফেরার পথে বিনপুরে হঠাত্ই গাড়ি থামিয়ে রাস্তার ধারে একটি চপের দোকানে ঢুকে পড়েন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দোকানের মালিক বুদ্ধদেব মহান্ত তখন চপ ভাজছিলেন। আচমকাই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে দোকানে ঢুকতে দেখতে খানিকটা হকচকিয়ে যান বুদ্ধদেব। দোকানে ঢুকেই মুখ্যমন্ত্রী তার উদ্দেশে বলেন, “সরো দেখি, তোমাকে সাহায্য করি।” ততক্ষণে তাঁর দোকানে ভিড়ও জমে গিয়েছে। এর পরেই উনুনের সামনে গিয়ে ঝাঝরি হাতা নিয়ে চপ ভাজতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। অবাক চোখে তখন সেই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত সবাই। মুখ্যমন্ত্রীকে গরম তেলের সামনে দাঁড়িয়ে চপ ভাজতে দেখে কিছু পরামর্শ দেন বুদ্ধদেব।মুখ্যমন্ত্রীকে তখন বলতে শোনা যায়, “ওরে আমি জানি, বাড়িতে রান্না করি তো।” চপ ভাজার পর সঙ্গে থাকা সাংবাদিক, নিরাপত্তা রক্ষী, সরকারি আধিকারিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতেও চপ তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। দোকানের বয়াম থেকে ক্যাডবেরি নিয়ে বিলি করেন স্থানীয় শিশুদের মধ্যে। জেলা সফরে গিয়ে কখনও দিঘার চায়ের দোকানে ঢুকে নিজেই চা বানাতে শুরু করেন তিনি। কখনও দার্জিলিংয়ে গিয়ে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে নিয়েই মোমো বানানোয় হাত লাগান। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একেবারে নতুন ভূমিকায় দেখা গেল ঝাড়গ্রামের বিনপুরে। ঝাড়গ্রামে সভা সেরে বেলপাহাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের ঘরে ঢুকে পড়েন মমতা। সেখানে বাড়ি, পানীয় জলের সংযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান স্থানীয়রা। সেখান থেকে ফেরার পথেই বিনপুরের এই চপের দোকানে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। দোকানে ভিড় করা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জানি আপনাদের কিছু কিছু সমস্যা আছে। দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে যাবেন। শীতকালে বিকেল বেলায় আপনারা ফুরফুরে মেজাজে দোকানে বসে গল্প করছেন, এটাই তো আমাদের বাংলার সংস্কৃতি। আপনারা ভাল থাকবেন।”দোকান থেকে বেরনোর আগে দোকান মালিক বুদ্ধদেবের হাতে চপ এবং ক্যাডবেরির দাম বাবদ টাকা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বুদ্ধদেবকে তিনি আরও বলেন, “তোমাকে তো চপ খাওয়াতে পারলাম না, তুমি মিষ্টি খেও।” এইদিনে একটু ভীড় হয়েছে এবং ১৫০০টাকার উপর বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন মালিক বুদ্ধদেব।








