প্রাক্তন সেনা কর্মীর পঞ্চায়েতের পরিষেবা বন্ধের নিদান
দাবদাহ লাইভ, তমলুক, অক্ষয় গুছাইতঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিজস্ব বাড়ীতে বসবাসকারী প্রাক্তন সেনা কর্মীর পঞ্চায়েতের পরিষেবা বন্ধের নিদান দিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সহ পঞ্চায়েত। জেলা প্রশাসনকে জানিয়েও তিন বছরে কোন সমাধান হয় নি বলে অভিযোগ উঠছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় সেনা বাহিনীর একজন প্রাক্তন সদস্য আশিষ মন্ডল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের চিয়াড়া গ্রামে তার বাড়ি। প্রাক্তন এই সেনা কর্মীর বর্তমান মানসিক যন্ত্রণার কাহিনী অনেকের চোখ কপালে উঠবে। ভাববেন কোন মধ্যযুগীয় বর্বরতার মধ্যে এখনও বসবাস করছি আমরা! এক সময় যে মানুষটা দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে রাত জেগে থাকত, আজ তিনি এবং পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রনায় নিজের বাড়িতে গৃহবন্দী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামের মাতব্বরেরা তাকে এবং তার পরিবারকে একঘরে করে দিয়েছে। আর এইভাবেই তিন বছর ধরে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গোটা পরিবার। গ্রামের একটি কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে গন্ডোগোলের সূত্রপাত বলে জানা যায়। গ্রামের কিছু মানুষের সাথে আশিষ বাবুর রাস্তার জায়গা নিয়ে বিবাদ হয়। আর এই বিবাদকে কেদ্র করে আদালতের দ্বারস্থ হন আশিষ বাবু। এরপরই গ্রামের কিছু মানুষ এবং মাতব্বরেরা একঘরের এই কঠিন নিদান প্রদান করে। আশিষ বাবুর অভিযোগ, গ্রামের মন্দিরে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওঠা নিষেধ, সরকারী জল পরিষেবা না দেওয়া, এমনকি গ্রামের কোন অনুষ্ঠান কিংবা পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মেও তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। পাশাপাশি আশিষ বাবুর স্ত্রী অপর্না ভৌমিক মন্ডল বাড়িতেই গ্রামের ছেলেমেয়েদের টিউশনি পড়াতেন।সেখানেও গ্রামের মাতব্বরদের কঠিন নিদান অব্যাহত, ঘোষনা করা হয়, যদি কোন গ্রামের কোনো ছেলে মেয়ে তার বাড়িতে পড়তে যেতে পারবে না, যদি কেউ পড়তে যায় তাহলে সেই ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবারকে এক হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এবিষয়ে আশিষ বাবু সমাধানের জন্য জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক সহ বিডিও, বল্লুক ২ গ্রামপঞ্চায়েতেও জানিয়েছেন। কিন্তু কোন সমাধান সূত্র মেলেনি। প্রায় তিনবছর ধরে আশিষ বাবু ও তার পরিবারের গ্রামের মানুষের সাথে কথাবলাও নিষেধের আওতায় থাকায় কঠিন জীবনযপন করতে হচ্ছে তাদের। এই বিষয়ে শহীদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজেশ হাজরার কাছে গেলে, তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান, তিনি এই বিষয়টি জানতেন না। তবে বিষয়টি খোঁজ নেবেন। পাশাপাশি বল্লুক ২ গ্রামপঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম বর্মন জানান,তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এখনো কোন সমাধান সূত্র মেলেনি। তবে এবিষয়ে চিয়াড়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বনাথ ঘোড়া আমাদের জানান,এই বিষয়ে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার চেষ্টা হয়েছিলো। তবে আশিষ মন্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ করেন পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিত ঘোড়া। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কবে এই ঘটনার সমাধান হবে, সেই দিকে তাকিয়ে প্রাক্তন সেনাকর্মীর পরিবার।








