ঘাটালে যৌনপল্লীতে ভাইফোঁটা নিলেন প্রশাসনিক কর্তারা
দাবদাহ লাইভ, ঘাটাল, অক্ষয় গুছাইতঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানার বিবেকানন্দ মোড় এলাকায় ঘাটাল-চন্দ্রকোনা রাজ্যসড়কের ধারেই ছোট-ছোট ঝুপড়ি বাড়িতে বসবাস করেন ২৫ জন যৌনকর্মী। এই এলাকাটি ঘাটালের যৌন পল্লী নামেই পরিচিত।বৃহস্পতিবার সেই যৌন পল্লীতেই সমস্ত রীতিনীতি মেনে ভাই ফোঁটার আয়োজন করেছিল ভারতীয় রেডক্রশ সোসাইটির ঘাটাল শাখা। আর ফোঁটা নিতে উপস্থিত হয়েছিলেন ঘাটালের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস, ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ মাঝি, ঘাটালের সাংসদ দেবের সাংসদ প্রতিনিধি রামপদ মান্না সহ মহকুমা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধিরা। ফোঁটা দিতে পেরে খুশি যৌনকর্মীরা। মহকুমাশাসক থেকে অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি মুখ করান যৌনকর্মীরা। অপরদিকে ফোঁটা নিয়ে বোনেদের হাতে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন মহকুমা শাসক সহ জন প্রতিনিধিরা । এই যৌন পল্লী সব থেকে পুরানো। ভাই ফোঁটার মত বিশেষ দিনে তাদের থেকে ফোঁটা নেওয়াতো দূরের কথা , তাদের খবরটুকুও কেউ রাখতো না। সমাজের এই সমস্ত বোনেদের মুখে হাসি ফোটাতে মহকুমা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বিগত বছর থেকে এই যৌন পল্লীতে ভাই ফোঁটার আয়োজন করে আসছে ভারতীয় রেডক্রশ সোসাইটির ঘাটাল শাখা। রেডক্রশ সোসাইটির সম্পাদক নারায়ণ বাবু জানান , “সমাজে কেউ ব্রাত্য নয় সবাই সমান। সবার জন্য কাজ করতে হবে সবার কাছেই যেতে হবে এবং তাদের সাথে মিশতে হবে এই বার্তা দিতেই যৌন পল্লীতে ভাই ফোঁটার আয়োজন”। যৌন পল্লীর বোনেদের থেকে ফোঁটা নিয়ে খুশি মহকুমাশাসক থেকে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।
যৌন কর্মীদের হাতে ভাইফোঁটা
দাবদাহ লাইভ, মালদা, তন্ময় মাহারাঃ মালদা জেলায় যৌন কর্মীদের হাতে ভাই ফোঁটা নিলেন একদল যুবক। চলে উপহার ও মিষ্টি মুখের পালা। এদিনের এই উৎসবে খুশি সকলে। মালদহের জুবলি রোড এলাকার হংসগিরি লেনে অনুষ্ঠানটি হয়। উল্লেখ্য পাঁচ বছর আগে অক্রুরমনি করোনেশন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা মিলে একটি সংস্থা চালু করে। যার নাম দেয় এশিয়ান গ্রুপ। যাদের কাজ সমাজ সেবা করা। তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে অনেক পরিবারে বোনদের হাতে ভাই ফোটা নেই। কিন্তু যারা পরিবার থেকে দুরে থাকে অথচ তাদেরকে ভাই ফোঁটা দেওয়ার কোন সুযোগ থাকে না। সেই দিকে নজর রেখে তারা একদিন খুশি আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য তাদের হাতে ভাই ফোঁটা নেন। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে তারা। এই বছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। ভাইফোঁটার দিন সংস্থার প্রায় ২০জন সদস্য যমের দুয়ারে পরলো কাঁটা এই মন্ত্র উচ্চারনের মধ্য দিয়ে ভাই ফোঁটা নেন বোনেদের হাত থেকে। দেওয়া হয় উপহার। চলে মিষ্টি মুখের পালা। এলাকার এক কর্মী জানান,এরা পরিবার থেকে অনেক দুরে থাকে। ফলে উৎসবে সে ভাবে তারা আনন্দ করতে পারে না। এই একটি দিন পাঁচ বছর ধরে এশিয়ান গ্রুপের সদস্যর এখানে এসে ভাই ফোঁটা নেন। এতে আমরা খুব খুশি আনন্দিত।এশিয়ান গ্রুপের সদস্য তমাল দাস জানান, সকলের পরিবার রয়েছে। তারা তাদের বোনদের সাতে ফোটা নেয়। কিন্তু এরাও মানুষ। এরা কেন বঞ্চিত হবে। সেই দিকে নজর রেখে আমরা তাদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে এদিন তাদের হাতে ভাই ফোটা নিয়েছি।








