পুনর্বাসনের দাবিতে অনড় উচ্ছেদ পরিবারগুলি থমকে গেল বিদ্যাসাগরের পুকুরপাড় ঘেরার কাজ
দাবদাহ লাইভ, ঘাটাল, অক্ষয় গুছাইতঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানার অন্তর্গত বীরসিংহ গ্রামের নাম সকলের জানা। এই গ্রামেই ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক বড়পুকুরকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে এক বিশালাকার পার্ক। বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে ৫৪ বিঘা জমির উপর এই পার্ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা । কিন্তু পুনর্বাসনের দাবিতে আটকে গেছে পার্কের প্রাচীর নির্মানের কাজ। বিদ্যাসাগরের এই বড়পুকুর পাড়ে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছে ১৭ টি তপশীলি জাতি ভুক্ত পরিবার। এই পরিবারের সদস্যরা পুনর্বাসনের দাবিতে অনড় থাকার ফলে থমকে গিয়েছে পার্কের প্রাচীর নির্মাণের কাজ। এই পরিবারগুলির দাবি, তাদের দিন আনা দিন খাওয়ার সংসার। বংশ পরম্পরায় তারা বিদ্যাসাগরের পুকুরপাড়ে বাস করে আসছেন। এতদিন তাদের কেউ বাঁধা দেয়নি। এমনকি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড , রেশন কার্ড সবই তাদের আছে। শুধু নেই নিজস্ব জমি বা বাড়ি। ওই বড়পুকুর পাড়েই এতকাল বসবাস করে আসছিলেন, সেখান থেকে তুলে দেওয়া হলে কোথায় যাবেন তাঁরা? পরিবারগুলির আরও দাবি, তাদের পুনর্বাসনের কথা চিন্তা না করেই তাদের বাড়ি ঘিরে দিয়ে প্রাচীর তুলে পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এমনকি তাদের সেখান থেকে উঠে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছে পরিবারগুলি। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে মিলেছে শুধুই আশ্বাস। পুনর্বাসনের কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। ইতিমধ্যে এই ১৭টি পরিবারের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। এলাকা পরিদর্শন করে পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শাসকদল এবং ঘাটালের মহকুমাশাসককে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি। তিনি বলেন, “বিদ্যাসাগরের পুকুরপাড়ে উন্নয়ন করা হোক, কিন্তু যে পরিবারগুলি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে, তাঁদের আগে পুনর্বাসন দিতে হবে। তাদের উচ্ছেদ করে পার্ক নির্মাণ করা চলবে না। অবিলম্বে পরিবার গুলির পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা না করলে বিধানসভা পর্যন্ত আন্দোলন নিয়ে যাব।” অপরদিকে ঘাটালের সিপিএম নেতা চিন্ময় পাল দাবি করেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, সেই পরিবারগুলির আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পঞ্চায়েত সমিতির তরফে আশ্বাস দেওয়া হলেও কথা রাখা হয়নি। তাই আমরা চাই আগে পুনর্বাসন দেওয়া হোক। না হলে একবার প্রাচীর তুলে দিলে প্রচন্ড সমস্যায় পড়বে ওরা।” দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলেছেন বাম নেতৃত্ব। এই বিষয়ে ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা ঘাটাল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ মাঝি জানান, “আমরা পরিবারগুলির পুনর্বাসনের কথা চিন্তা করছি। চারটি পরিবারকে ইতিমধ্যে লে – আউট দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও বাড়ি করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা এইভাবে বিরোধিতা করলে উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে।”








