ফরওয়ার্ড ব্লকের মাটি আঁকড়ে দুলাল কুন্ডু
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর কয়েক বছর কাটলেও কোনো দলে যোগ না দিয়ে আজও ফরওয়ার্ড ব্লকের মাটি আঁকড়ে আছেন কদম্বগাছির বাসিন্দা দুলাল কুন্ডু। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ৩৪ বছর যাবত ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয় তাঁর। সেই সময় এ রাজ্যে বামফ্রন্টের ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা একাধারে গ্রন্থাকার মন্ত্রী কমরেড সরল দেবের হাত ধরেই ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগ দেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত ১ নম্বর ব্লকের কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মতলা এলাকার বাসিন্দা দুলাল কুন্ডু। তরতাজা তরুন যুবক দুলাল কুন্ডুর বয়স তখন খুবই কম। বাড়ীর কাছাকাছি এক প্রাইভেট কোম্পানির ক্যান্টিনে রান্নার কাজ করতেন তিনি। কাজের ফাঁকে রাজনীতির নেশায় মিটিং মিছিলের খবর পেলেই ছুটে যেতেন সেখানে। দলীয় প্রচারের ব্যানার, পোষ্টার, মাইক বাঁধা থেকে শুরু করে দেওয়াল লিখন ছাড়াও ছোটোখাটো বক্তৃতা রাখা সবটাই করতেন তিনি। কদম্বগাছি অঞ্চলটি তখন বামফ্রন্টের দখলেই ছিল। সেই সময় দুলালের মত একনিষ্ঠ কর্মীর দাপটে গোটা কদম্বগাছি অঞ্চলকে সিংহের হুংকারের ন্যায় আগলে রেখেছিল বামফ্রন্ট। তখন বামফ্রন্টের কাছে কমরেড দুলালের ভাবমূর্তি ছিল একেবারে আলাদা। সেই সময় দেগঙ্গা বিধান সভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের দাপুটে নেতা ইয়াকুব আলি ও কদম্বগাছির পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন প্রয়াত হাসেম আলি। ১৯৮৭ সালে কদম্বগাছির ফরওয়ার্ড ব্লকের আঞ্চলিক কমিটির সন্পাদক পদের দায়িত্ব পান দুলাল কুন্ডু। এরপর ২০০৩ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে জয় লাভ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কদম্বগাছি অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর ২০১১ সালে বাংলার মসনদ থেকে বামফ্রন্ট বিদায় নেয়, তৃনমুল ক্ষমতায় আসে। কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত চলে যায় “মা-মাটি-মানুষের” সরকারের দখলে। ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাম দল ও তার কমরেডরা। দলীয় অস্তিত্বের লড়াইয়ে ময়দানে টিকে থাকতে ও দলকে নতুন করে চাঙ্গা করতে বামফ্রন্টে শুরু হয় কিছু দলীয় পদের রদবদল। কমরেড দুলাল কুন্ডুকে কদম্বগাছির ফরওয়ার্ড ব্লকের আঞ্চলিক সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে কমরেড কালি পদ ঘোষকে দেওয়া হয় ওই পদ। বর্তমানে তিনি ভারতী জনতা পার্টির সাথে যুক্ত। ২০০৬ সালে অর্থাৎ বাম আমলে দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেগঙ্গার বাসিন্দা মফিদুল হক সাহজি ওরফে মিন্টু-কে হারিয়ে ডা: মোর্তাজা হোসেন ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক হন। বিধায়ক হওয়ার পর রাজ্যের ত্রাণ মন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছিলেন মোর্তাজা। সেই সময় ত্রাণ মন্ত্রী মোর্তাজা হোসেনের ছায়াসঙ্গী ছিলেন এই দুলাল কুন্ডু। বর্তমানে সেই মোর্তাজা হোসেন ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে শাসক দল তথা তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছেন। দুলাল কিন্তু আজও ফরওয়ার্ড ব্লকেই আছেন। বর্তমানে কদম্বগাছি অঞ্চলে ফরওয়ার্ড ব্লকের তেমন সংগঠন নেই বললেই চলে। ফরওয়ার্ড ব্লকের একটি আঞ্চলিক পার্টি অফিসও সেখানে জীর্ণ অর্থাৎ ভগ্নদশা অবস্থায় বেদখল হয়ে পড়ে রয়েছে। শেষমেশ দুলালের গুরুত্ব বুঝতে পেরে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফরওয়ার্ড ব্লকের এক সম্মেলনে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় পুনরায় কমরেড দুলাল কুন্ডু কে কদম্বগাছি আঞ্চলিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। রাজনৈতিক বাতাবরণে কদম্বগাছি অঞ্চলে বহুদূর জল গড়িয়েছে বামফ্রন্টের। বহু নেতা এসেছে আবার বহু নেতা চলে গেছে, অনেক নেতা প্রয়াত হয়েছেন কিন্তু কমরেড দুলাল কুন্ডু এখনও কদম্বগাছির ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজনৈতিক মাটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে কমরেড দুলাল কুন্ডু জানান বামফ্রন্ট দলটিকে ভালোবাসেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ে শেষ জীবন পর্যন্ত ফরওয়ার্ড ব্লকের ঝান্ডা ধরেই এগিয়ে যেতে চান দুলাল বাবু।








