মানিকোড়া ডাকাত কালি পুজো ঘিরে মেলা
দাবদাহ লাইভ, মালদা, তন্ময় মাহারাঃ একসময় পুজোর সময় শেকল দিয়ে বাঁধ থাকত দেবীমূর্তি। এমনি গল্প শোনা যায় স্থানীয় লোকমুখে। এখন যদিও সেই রীতি নেই, বর্তমানে মশাল জ্বালিয়ে পুজো হয় মানিকোড়া ডাকাত কালিরদেবীর চক্ষুদানের সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা। স্থানীয় লোকমুখে কথিত রয়েছে, চক্ষুদানের সময় নাকি দেবীমূর্তি দুলতে থাকে। তাই আগে শেকল দিয়ে বাঁধা হতো প্রতিমা। এখন আর সেই নিয়ম নেয়। এখন শুধু কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ভক্তদের কাছে জাগ্রত মালদহের হবিবপুর ব্লকের মানিকোড়া ডাকাত কালি। মালদহের হবিবপুরের ব্লকের অন্তর্গত মানিকোড়া গ্রামে বর্তমানে এই ডাকাত কালির পুজো ঘিরে বহু ভক্তের সমাগম হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই পুজো ডাকাত দল দিত আগে। অবিভক্ত বাংলায় ঘন জঙ্গলে ডাকাতেরা পুজো শুরু করেছিলেন এখানে।কালি পুজোর রাতে ঘন জঙ্গলে মশাল জ্বালিয়ে পুজো করত রাতভোর, প্রতিমা বিসর্জন করে চলে যেত ডাকাত দল। ডাকাতেরা পুজো বন্ধ করলে স্থানীয় জমিদার সেই কালি পুজো করে আসছে দীর্ঘদিন। তারপর স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাঁধে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেন জমিদার। বর্তমানে মানিকোড়া গ্রামের বাসিন্দারা মিলিত হয়ে এই কালি পুজো করছেন। একসময়ের ডাকাত কালী এখন সার্বজনীন কালী পূজা হিসাবেই পরিচিত।প্রতিবছর এই কালীপুজোয় তিন থেকে চার হাজার পাঁঠা বলি হয়ে থাকে। একসময় এখানে মহিষ বলি হত তবে বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র মালদহ জেলা নয় বর্তমানে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে থেকে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই কালীপুজোয়। বর্তমানে কালীপুজোকে ঘিরে এক বিশাল মেলার আয়োজন করে থাকেন গ্রামের বাসিন্দারা। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই কালীপুজো ও মেলা দেখতে আসেন।













