গড়পাড়া দূর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির মেলবন্ধন
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, বৈশাখী সাহাঃ বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় আনন্দোৎসব হল দূর্গোৎসব। যে উৎসব পালনের জন্য একটি বছর অধীর অপেক্ষায় থাকে বাঙালি। বছরের ৪টে দিন দিকে দিকে সারম্বরে এই দূর্গোৎসবের আনন্দে মেতে থাকে আপামর বাঙালি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার গোবরডাঙা এক ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। নানান ঐতিহ্যের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন- যেন এক অনন্য নজির। গোবরডাঙা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গড়পাড়া এলাকার একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও গড়পাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে সর্বধর্ম সমন্বয়ে সাড়ম্বরে দূর্গোৎসব পালিত হয়। মসজিদ প্রাঙ্গণ বলতে মসজিদের সামনে থাকা ছোটো একটি ময়দান। মসজিদের বাঁদিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষের বাড়ি, ডানদিকে রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের বাড়ি। তিন ধরনের সম্প্রদায়ের মানুষজন ওই এলাকায় মিলেমিশে বসবাস করে। মসজিদ প্রাঙ্গনে ঈদের সময় নামাজ আদায় করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন, ২৫শে ডিসেম্বর মহা ধুমধামে বড়দিন পালিত হয়। বড়দিন উপলক্ষে মসজিদ প্রাঙ্গণেই বসে মেলা। আবার সেখানেই জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন একত্রিত হয়ে উদযাপন করে দুর্গোৎসব। ওই সময় দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট থাকে মসজিদ প্রাঙ্গণ। গড়পাড়া এলাকায় সব মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ যেন এক নজিরবিহীন মেলবন্ধন। দূর্গোৎসবে সম্প্রীতির মেলবন্ধন প্রসঙ্গে পূজো উদ্যোক্তা ইয়ং স্টার ক্লাবের সম্পাদক মলয় চৌধুরীর কথায় গড়পাড়া এলাকায় হিন্দু খ্রিস্টান মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ভাবে বসবাস করে। সর্বদাই একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল ধরনের অনুষ্ঠান তাঁরা উদযাপন করে। ওই এলাকায় ঈদ, বড়দিন যেমন সবাই সম্প্রীতি বজায় রেখে পালন করে, তেমনই পূজো কমিটিতে থেকে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সম্মিলিতভাবে পূজোর আয়োজন করার পাশাপাশি একে অপরের সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখেই বহু বছর যাবত মহা ধুমধামে দুর্গোৎসব উদযাপন করে চলেছে ১৮৮৫ সালে স্থাপিত গড়পাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে। মসজিদে নামাজের সময় মাইক, গান, বাজনা একেবারে বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই দীর্ঘদিন যাবত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির বহন করে চলেছে গড়পাড়ার সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন। পূজো প্রসঙ্গে গড়পাড়া মসজিদের ইমাম জামাত আলি মন্ডল এর কথায় ওই মসজিদ প্রাঙ্গণে সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন একত্রিত হয়েই ঈদ, বড়দিন ও দূর্গা পূজা মহা সমারোহে পালন করে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তুলে ধরেন সৌভ্রাতৃত্বের কথা। তাদের কথায় গড়পাড়া এলাকায় সর্বধর্ম সমন্বয়ে সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। সমস্ত ধরনের অনুষ্ঠান যেমন তাঁরা একত্রিত হয়ে উদযাপন করেন তেমনই বিপদ আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ান। এক কথায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁরা সর্বদা সজাগ।









