যুবতীর পায়ে শিকল হতাশগ্রস্ত পরিবার সরকারি সাহায্যের আশায়
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবতীর পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখার অমানবিক দৃশ্য ধরা পড়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দেগঙ্গা বিধানসভার বেড়াচাঁপা দু’নম্বর পঞ্চায়েতের যাদবপুর এলাকা থেকে ওই অমানবিক দৃশ্যটি ধরা পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ২৮ বছরের মানসিক ভারসাম্যহীন নার্গিস নামে এক যুবতীকে চিকিৎসা করাতে না পেরে দীর্ঘ কুড়ি বছর যাবত পায়ে শিকল পরিয়ে তালা লাগিয়ে আটকে রাখে তাঁর পরিবার। যুবতী দিনের প্রায় অধিকাংশ সময়ই ঘরের বাইরে শিকল বাঁধা অবস্থায় থাকে। ওই দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে জানান স্থানীয়রা। এ প্রসঙ্গে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীর মা জানান ছোটবেলা থেকেই তাদের মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। তারা গরীব মানুষ। মেয়ের বাবা দীনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। তার মধ্যেও মেয়েকে সুস্থ করে তোলার জন্য বহু প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর নার্গিসের মানসিক রোগের চিকিৎসা করে তারা একপ্রকার সর্বশান্ত। গরীব পরিবারের পক্ষে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের চিকিৎসার খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ায় মাঝপথেই থমকে যায় তাঁর চিকিৎসা। মাঝেমধ্যেই খামখেয়ালী হয়ে কাউকে কিছু না বলে অন্য কোথাও চলে যেত, খুঁজে পাওয়া যেত না নার্গিসকে। একদিকে মেয়ে সন্তান, তার উপর মানসিক ভারসাম্যহীন। বেশ কয়েকবার ওইরূপ ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত পরিবার মুলত বাধ্য হয়েই ২০ বছর যাবত নার্গিসের পায়ে শিকল পরিয়ে তালা মেরে আটকে রেখেছে বলে জানান নার্গিসের অসহায় মা। হতাশাগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের কথায় সরকারি কোনো সহযোগিতা পাওয়া গেলে হয়তো সুস্থ হতে পারতো নার্গিস।









