করোনা চীনের উদ্ভাবন করা জৈবাস্ত্র (তথ্য সম্বলিত গবেষণামূলক নিবন্ধ)
শমীন্দ্র ঘোষ
প্ল্যানডেমিক পত্রিকার এবং AIM সংস্থার ভান্ডাফোর “প্ল্যানডেমিক” নামে বাংলায় একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয় করোনা, টিকা বিষয়ে। তাদের বক্তব্য “করোনা” ভাইরাস নামে কিছু নেই; আসলে ওটা একটি ভীতি, যেমন “জুজু” বা “ভূত” ইত্যাদি, এটি ষড়যন্ত্র; এবং করোনার বিরুদ্ধে “টিকা” হলো আরেকটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র; এই ষড়যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার, রথসচাইল্ড, বিল গেটস, কিসিঞ্জার প্রমুখ সহ আরও কয়েকজন পুঁজিপতিদের উদ্ভাবিত। এভাবে তাঁরা দেশে দেশে গণহত্যা করতে চায়; পৃথিবীর জনসংখ্যা কমাতে চায়। ফার্মা মাফিয়াদের দ্বারা এসব সংঘটিত করছেন তাঁরা। এদেরই সংস্থার নাম “অ্যাওয়েকেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট”। যদিও এদের দাবিকৃত বিষয় নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। উক্ত দাবির সমস্তই সত্য নয় বলে এখন প্রমাণিত হচ্ছে। করোনা এবং টিকা বিষয়ে “সত্যানুসন্ধানী”রা তথ্য প্রমাণভিত্তিক বলছেন যে — করোনা ভাইরাস এবং টিকা হলো জৈবাস্ত্র; এই অস্ত্রের দ্বারা জৈব যুদ্ধ চলছে বিশ্বজুড়ে; এটা “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ”। করোনা চীনের উদ্ভাবন করা জৈবাস্ত্র; পুঁজিবাদী চীন নিজের আর্থিক শক্তি বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো-বিরোধী জোট জোরদার করার জন্যেই এমন জৈবযুদ্ধ শুরু করে ২০১৯-এর ডিসেম্বরে। এসবই পূর্বপরিকল্পিত। 
এই পরিকল্পনার ফলে এখন চীনের আর্থিক পরিকাঠামো এবং রোজগার অনেকগুণ বেড়েছে; এবং চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া সহ মোট ৫০টি রাষ্ট্রের জোট বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সমকক্ষ হয় উঠেছে। বিশ্ব পুঁজিবাদী, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ হয়েছে। যদিও ২০২০ থেকেই শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ; এর শুরু ২০১৫-তে; তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র জোটের সঙ্গে চীন জোটের “ঠান্ডা যুদ্ধ” তথা বিশ্বের “দ্বিতীয় ঠান্ডা যুদ্ধ” শুরু হয়। এর জেরেই “জৈবযুদ্ধ” শুরু করে চীন। চীন-বিরোধী জোট যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য চীনের করোনা জৈবাস্ত্রকেই পাল্টা কাজে লাগিয়ে আমদানি করেছে করোনার পরবর্তী রূপভেদ এবং টিকা; এবং এসব ছড়াতে শুরু করে; কোথাও বা শুধু মিডিয়ার মাধ্যমে গুজবের দ্বারা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে চলেছে। এগুলো সবই পরবর্তীকালের পরিকল্পিত। এই বিষয়ে এইচআইভি আবিষ্কারক ও নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. লুক মন্তেনিয়ার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শদাতা জীবাণুবিজ্ঞানী ড. পার্থসারথী রায়, আমেরিকার বিজ্ঞানী জুডি অ্যান্নে মিকোভিৎস, জীববিজ্ঞানী জেস্সি ব্লুম এবং বহু জীবাণু বিজ্ঞানীর এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানীর বক্তব্য উল্লেখ করছেন।
সাম্প্রতিক মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে যে, করোনা একটি অমূলক ভীতি; “করোনাফোবিয়া”তে আক্রান্ত বেশি তৃতীয় বিশ্বের দেশ। সেই অনুযায়ী ভারতে ও বাংলাদেশে “করোনাফোবিয়া”য় আক্রান্ত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ সহ উচ্চশিক্ষিত থেকে নিরক্ষর বহু পেশার মানুষ। অ্যালোপ্যাথির বহু ওষুধ, টিকা রয়েছে যেগুলো পরীক্ষিত, আবিষ্কৃত এবং যেগুলোর প্রয়োজন আছে; কখনও বা শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন আছে; এসব প্রয়োগে মানুষ সুস্থ হয়, হচ্ছে। সমস্ত ওষুধই ফার্মা মাফিয়াদের মুনাফার ষড়যন্ত্র নয়।অথচ, এসবে বিশ্বাস করে না “অ্যাওয়েকেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট”এর লোকজন এবং প্ল্যানডেমিক পত্রিকাপন্থীরা।প্ল্যানডেমিক পত্রিকাপন্থীরা তাদের পত্রিকায় “হেনরি কিসিঞ্জার”এর নাম করে একটি বক্তব্য প্রচার করছে। কিসিঞ্জারের বক্তব্য হিসেবে পত্রিকাটির দাবি —“ভেড়ার পাল বাধ্যতামূলক ভ্যাকসিন একবার মেনে নিলে বুঝবেন খেলা শেষ। ‘বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য’ জবরদস্তি রক্তদান অথবা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দান থেকে শুরু করে সবকিছু তারা মানতে বাধ্য হবে। শিশুদের জিন পাল্টে দেওয়া এবং তাদের বন্ধ্যাকরণ আমরা করতে পারব ‘বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য’। ভেড়ার মগজ কব্জা করুন, গোটা ভেড়ার পালই আপনার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকরা কোটি কোটি ডলার কামাতে পারবেন। এই ঘরে যারা এসেছে তাদের অনেকেই পুঁজি বিনিয়োগকারী। আমরা ভেড়ার পালকে নিশ্চিহ্ন করব আর তার খরচা ওদের কাছ থেকেই উশুল করব। বিশাল লাভই লাভ, তাই নয় কি?” — হেনরি কিসিংগার, WHO-র কাউন্সিল সভায় বক্তৃতা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। (এটির উৎসে উল্লেখিত — “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউজেনিক্স পরিষদ”)২৯/০৮/২২-এ আমার কাছে আসেন সংস্থার ও পত্রিকার কয়েকজন কর্মী; আমাকে পত্রিকাটি দেন। কিসিঞ্জারের বক্তব্য বিষয়ে তাঁদের দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্যে আমি তথ্য প্রমাণ পেশ করার দাবি জানাই তাঁদের কাছে। অনেক কথার পরে তাঁরা “টেলিগ্রাম” অ্যাপসের কথা বলেন। তারপরেই তাঁদের প্রতি কুড়ি লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ করে বলি যে, ২৬/০৯/২০০৯-এ “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউজেনিক্স পরিষদ”এ হেনরি কিসিঞ্জার উক্ত ভাষণ দিয়েছেন, এমন তথ্য প্রমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সীল ও স্বাক্ষর সহ আমাকে দেখাতে পারলে আমি আপনাদের কুড়ি লক্ষ টাকা দেবো। রাজি হয়ে হ্যাঁ বলুন; নচেৎ স্বীকার করুন যে, আপনারা মিথ্যে কথা প্রচার করছেন।অতঃপর তাদের পলায়ন।তাঁদের মধ্যে একজন স্বীকার করলেন যে, আমার দাবি সঠিক এবং তাদের দাবি মিথ্যা।আসুন আমরা সত্য জেনে নিই —কে এই হেনরি কিসিঞ্জার?
ড. হেনরি আলফ্রেড কিসিঞ্জার, জন্ম ২৭/০৫/১৯২৩ জার্মানিতে; এখন বয়স ৯৯ বছর ৩ মাস। ইহুদি হিসেবে নাৎসি জার্মানি থেকে ১৯৩৮-এ উদ্বাস্তু হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রিত হন; ১৯৪৩ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। যুক্তরাষ্টের রিপাবলিক পার্টির নেতৃত্ব ছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাঁর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ফলে তাঁকে যৌথভাবে ১৯৭৩-এ “নোবেল শান্তি পুরস্কার” দেওয়া হয়। তিনি ২০/০১/১৯৬৯ থেকে ০৩/১১/১৯৭৫ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৭ম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হন। তিনি ২২/০৯/১৯৭৩ থেকে ২০/০১/১৯৭৭ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬তম সচিব ছিলেন; এই পদটি রাষ্ট্রপতির সচিবপরিষদের এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তিনি ০১/০৭/২০০০ থেকে ০১/১০/২০০৫ পর্যন্ত উইলিয়াম ও ম্যারি কলেজের ২২তম আচার্য ছিলেন। তিনি ২৭/১১/২০০২ থেকে ১৪/১২/২০০২ পর্যন্ত ০৯/১১ তদন্ত কমিশনের প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৫৬ – ১৯৫৮ পর্যন্ত “রকফেলার ব্রাদার ফান্ড” সংস্থার পরিচালক ছিলেন। তিনি রবার্ট আর. বোউই-র সঙ্গে যৌথভাবে ১৯৫৮তে “সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার” প্রতিষ্ঠা করেন। একাধিক সরকারী সংস্থার পরামর্শদাতা, উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। সমকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে তাঁর প্রভাব প্রচুর। তাঁর পরিকল্পনায় ১৯৭১-এ সোভিয়েত বিরোধী জোটের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সমঝোতা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নিক্সন।
হেনরি কিসিঞ্জার কুখ্যাত ব্যক্তিত্ব হলেও শেষ বয়সে কিছু ভালো কাজ করেছেন।তিনি ১৯৭১-এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে মদত দিয়েছিলেন; হাজার হাজার বাঙালি যখন মাতৃভূমির জন্যে রক্ত ঝরাচ্ছেন, তখন কিসিঞ্জার উপহাস করেছিলেন; পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন দিয়ে তিনি নৈতিক দেউলিয়াপনা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের দ্বারা বাঙালির ধ্বংস চেয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীকে “কুত্তা” ও “ডাইনি” বলায় এবং “ভারতীয়রা বেজন্মা” বলার জন্যে রাষ্ট্রপতি নিক্সন তাঁর নিন্দা করেন এবং তাঁর মত গ্রহণ করেননি। পরে যদিও কিসিঞ্জার তাঁর উক্ত মন্তব্যের জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।১৯৮৯-এ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গুপ্ত তথ্য প্রকাশ করে যে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে কিসিঞ্জার ঘুষ নিয়েছিলেন।১৯৯৫ – ২০০১ পর্যন্ত তামা, সোনা ও খনিজ পদার্থের বহুজাতিক সংস্থার পরিচালক ছিলেন। এরপরেও তিনি বহু বহুজাতিক সংস্থায়, বাণিজ্যিক সংঘে যুক্ত ছিলেন।২০১০ নাগাদ তিনি এবং উইলিয়াম পেররি, সাম নান্ন, জর্জ শুলৎজ যৌথভাবে “পরমাণু অস্ত্র-মুক্ত বিশ্ব” গঠনের প্রস্তাব দেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে; ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে তা প্রকাশিত হয় এবং এই বিষয়ে “নিউক্লিয়ার টিপিং পয়েন্ট” নামক তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়।তাঁর “অন চায়না” নামক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১১তে। তাঁর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে গ্রন্থ “ওয়ার্ল্ড অর্ডার”, ২০১৪, প্রকাশক পেঙ্গুইন। “ওয়ার্ল্ড অর্ডার” মানে “বিশ্ব ব্যবস্থা”। এই দুটো গ্রন্থেই তিনি জানান যে, চীন তার কিউইন বংশের মতো ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধার করতে চায়। এই দুটি গ্রন্থে কোত্থাও যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং ন্যাটো গোষ্ঠীর পুঁজিপতিদের দ্বারা “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার” নামক গুজব লেখা নেই। বরং “উদারনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থা” কীভাবে কোন খাতে বইতে পারে, সেই বিবরণ দিয়েছেন। এই তথ্য পাওয়া যায় ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকায় তাঁর এক সাক্ষাৎকারে। তিনি আরও জানান, “চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র “দ্বিতীয় ঠাণ্ডা যুদ্ধে” অবতীর্ণ হয়েছে। এর ফলে প্রথম বিশ্ব-মহাযুদ্ধের মতো সামরিক যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তাই, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন দুজনের প্রতি আহ্বান করেছেন কম দ্বন্দ্বমূলক বৈদেশিক নীতি নির্ধারণের জন্যে। আগেও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, “চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধ হবে, যা ইওরোপীয় সভ্যতা ধ্বংসকারী বিশ্বযুদ্ধের থেকেও খারাপ।” ৩ এপ্রিল, ২০১৯, এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, “করোনা পরিস্থিতি হলো ‘উদারনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থা’র প্রতি একটি হুমকি স্বরূপ। জাতীয়ভাবে এই পরিস্থিতির/ সংকটের মোকাবিলা করা হলেও যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয় সীমানা যাবে না, তাই এর মুকাবিলার জন্যে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই জরুরি।” মে, ২০২২, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ সংক্রান্ত ভাষণে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু পুতিন সেই পরামর্শ বাতিল করেন। – এই হলেন কিসিঞ্জার। 

ভান্ডাফোরের_বিস্তারিতঃ “প্ল্যানডেমিক” পত্রিকা ও তাদের উৎস বিষয়ে — ১) “প্ল্যানডেমিক” পত্রিকাপন্থীরা অতি উৎসাহী এবং আবেগপ্রবণ হয়ে নানান গুজব ছড়াচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ সূত্রের উৎস যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কিছু ব্লগ এবং ফেসবুক গ্রুপ। সেখান থেকে নিয়ে “টেলিগ্রাম” নামক মেসেঞ্জার অ্যাপসে গ্রুপ গঠন করে ছড়াচ্ছে। এবং পত্রিকায় ছাপাচ্ছে।২) যাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, কম্পিউটার নেই, যারা সূত্র ও তথ্য যাচাই করতে অক্ষম তাদের মধ্যেই এই গুজব গেঁথে বসেছে।৩) তারা বলে যে, “টেলিগ্রাম” হলো সত্য জানার জায়গা; “গুগুল” যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের তাই সেখানে আসল খবর থাকবে না। ইত্যাদি নানান মনগড়া কথা প্রচার করছে।যদিও, “টেলিগ্রাম” অ্যাপস-এর সদর দপ্তর :– আইনি :- তোরতোলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপ, এবং কারিগরি :- দুবাই, আরব আমীরশাহী। শুরু ২০১৩ সালে।৪) এদের একাংশ “অ্যাওয়েকেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট” নামক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ৫) এদের মধ্যে রয়েছে স্বঘোষিত “মেমোরিম্যান” হিসেবে প্রচার করা এক প্রতারক বিশ্বরূপ রায়চৌধুরী; প্রতারণার মামলায় তিনি পলাতক। এই প্রতারকের গোষ্ঠীর নাম “বি.আর.সি”। ৬) এদের হয়ে “টেলিগ্রাম” অ্যাপসটি চালান জগন্নাথ চ্যাটার্জি সহ কয়েকজন। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইনি ছদ্মবেশী হিন্দু এবং আধুনিক বিজ্ঞানের চিকিৎসার বিরোধী এবং প্রাচীন ভারতের বৈদিক, পৌরাণিক চিকিৎসার পক্ষে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার পক্ষে সওয়াল করেন, যা আদপেই অপবিজ্ঞান। ৭) অসংখ্য হোমিওপ্যাথি ডাক্তার এবং ভক্ত যুক্ত এই সংস্থার সঙ্গে। হোমিওপ্যাথি নামক অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে জেমস র্যান্ডি, প্রবীর ঘোষ, শমীন্দ্র ঘোষ, অভিষেক দে প্রমুখের চ্যালেঞ্জ না নিয়ে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার এবং ভক্ত অনেকেই পলায়ন করেছেন। ৮) এদের মধ্যে বিজেপি আরএসএস-এর সমর্থক, কর্মী যুক্ত; যারা প্রাচীন ভারতের বৈদিক ও পৌরাণিক অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি রূপায়ণের প্রচার করে; ফলে অনেকেই এখন এদের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। ৯) এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু নকশালপন্থী, যাদের জন্ম নকশাল আন্দোলন শেষ হওয়ার পরে। ১০) এদের কতিপয় নারী এবং পুরুষের কাজ আবেগের দ্বারা বিপথে চালিত করা এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, উত্যক্ত করা, ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধি করা; এমন বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে; তাই অনেকেই এই আন্দোলন থেকে সরে গিয়েছেন।১১) ২৬/০২/২০০৯-এ কিসিঞ্জার কোথাও ভাষণ দেননি।১২) ২০০৯-এর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনও সভায় যোগদান করেননি এবং যোগদান করার কোনও পদাধিকারী এক্তিয়ার তাঁর ছিল না।১৩) কিসিঞ্জারের সমস্ত ভাষণ আর্কাইভ করা হয়েছে; সেখানেও উল্লেখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।১৪) তিনি ২০০৯ সালে মাত্র তিনটি ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানেও উল্লেখিত প্রসঙ্গ নেই।১৫) সর্বোপরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার “ইউজেনিক্স” (Eugenics) নামক কোনও পরিষদের অস্তিত্ব কোনদিন ছিল না, আজও নাই।




