পঞ্চায়েতে লড়াই গায়ের জোরে নয় বলে জঙ্গলমহলে বার্তা অভিষেকের
দাবদাহ লাইভ, ঝাড়্গ্রাম, অক্ষয় গুছাইতঃ জঙ্গল মহলের দুই জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বৈঠকে দলের পদাধিকারীদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা ‘জোর করে পঞ্চায়েত ভোটে লড়াই নয়, গায়ের জোর ফলালে, দল তাঁর পাশে থাকবে না’। সূত্রের খবর, পাশাপাশি সব ব্লকের সাংগঠনিক দায়িত্বের জন্য নাম চাওয়া হয়। দলীয় সূত্র মারফৎ জানা যায় ব্লক স্তরেও বেশ কিছু রদবদল হতে চলেছে। সাত দিনের মধ্যে ব্লক কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানা যায়। বৈঠকে অবশ্য পার্থ চট্টোপাধ্যোয়ের প্রসঙ্গ ওঠেনি বলে দলীয় সূত্রে খবর। পার্থ কাণ্ডে নাম উঠে এসেছিল পিংলার। যেখানে পার্থ বাবুর স্ত্রীর নামে বিতর্কিত স্কুল রয়েছে। পিংলার ব্লক সংগঠনে সভাপতি বদল করা হবে কিনা তা’ নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, অন্যান্য ব্লকের সাথে পিংলার ব্লক সভাপতি পদে একাধিক নাম জমা পড়েছে দলের অন্দরে। জঙ্গলমহলের এই দুই জেলায় পঞ্চায়েতের লক্ষ্যে এখন থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের। তাঁর আরও নির্দেশ, গণতান্ত্রিক পরিবেশে লড়াই হবে, এখন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের উন্নয়ন-এর বার্তা নিয়ে এলাকায় প্রচার। সূত্রের খবর ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা মিটিং-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “পঞ্চায়েতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের মন জয় করে মানুষের পাশে থেকে তাদের পক্ষে থেকে কাজ করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের নেতৃত্বে যে সরকারি পরিষেবা সে সবের প্রচার করতে হবে।” বিধায়ক, সাংগঠনিক জেলা সভাপতি, অন্যান্য শাখা সংগঠনের মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্লক স্তরে দ্রুত কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা মিটিং-এ তিনি জানিয়েছেন, “মানুষের বাড়ি বাড়ি যান। এ তাই বলছে ও তাই বলছে এই করে বেড়াবেন না। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। সকলকে এক হয়ে চলতে হবে। কেন্দ্র সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র করছে। তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনই একমাত্র পথ।”বৈঠকে ব্লক কমিটি গড়ার ক্ষেত্রে বাকি জেলাগুলোর মতই বিধায়কদের মতামত নেওয়া হয়েছে। নিজের লোক হলেই সে টিকিট পাবে এটা হবে না। নাম নিয়ে আলোচনা হবে। মানুষের পাশে যে থাকবে তাকেই টিকিট। দলের সিদ্ধান্তই যে মানতে হবে তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, ১৫ দিন অন্তর জেলা কমিটি বসে কী কী কাজ করলেন সেটা আলোচনা করবেন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জঙ্গলমহলের আর এক জেলা ঝাড়গ্রাম নিয়েও বৈঠক করেছেন। প্রসঙ্গত পশ্চিম মেদিনীপুরে ২১১ ও ঝাড়গ্রামে ৭৯’টা পঞ্চায়েত আছে। দলের নেতাদের নির্দেশ প্রত্যন্ত এলাকায় যান। পঞ্চায়েত স্তরের সব কাজ যাতে তারা পায় দেখতে হবে। আদিবাসীদের জন্য একাধিক কাজ এই সরকার করেছে। তার স্কিম পৌঁছে দিতে হবে। একে অন্যকে সাহায্য করবে।আপনারা বিধানসভায় ভালো ফল করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই।জঙ্গলমহলে যাদের মুখ মানুষ চাইছে তাদের সামনে আনুন।মানুষ কি চাইছে তা বুঝে নিন।মানুষের কাছে সেই সব নিয়ে যান।।এখন থেকে বুঝে নিন। গায়ের জোর দেখানোর জায়গা নেই।














