যৌন হেনস্থার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার মহারাজ
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ “পুলিশের হাতে গ্রেফতার মহারাজ” শুনতে চমক লাগলেও, কথাটা কিন্তু বাস্তব। মহারাজ হলেও তিনি কিন্তু কোনো রাজ্যের রাজপ্রাসাদের রাজসিংহাসনে বসে রাজ্য পরিচালনা করেন না, তিনি একটি আশ্রম পরিচালনা করেন। আশ্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সেই মহারাজের বিশাল কর্মকান্ডের একটা অংশ তুলে ধরা হল জনসম্মুখে। দীর্ঘদিন যাবত আশ্রমের এক নাবালককে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে আশ্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ওই মহারাজকে গ্রেফতার করে গোবরডাঙা থানার পুলিশ। এটি গোবরডাঙা থানার সরকার পাড়ায় অবস্থিত একটি সেবাশ্রমের ঘটনা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার গোবরডাঙা থানার অন্তর্গত সরকার পাড়ায় অবস্থিত শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমে থাকে বহু শিশু। যে আশ্রমে থেকে আশ্রমটি পরিচালনা করার পাশাপাশি তাঁর বিদ্যাভবনে ওই আশ্রমের শিশুদের পাঠদান করতেন ওই মহারাজ। ওই আশ্রমের শিশুদের মধ্যে মহারাজের বিদ্যাভবনে পঞ্চম শ্রেনীতে পাঠরত ১২ বছরের এক নাবালককে দীর্ঘদিন যাবত যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে আশ্রমের দায়িত্ববান মহারাজ ৬২ বছরের স্বামী সত্যরুপানন্দ-র বিরুদ্ধে। কয়েকদিনের ছুটিতে ওই নাবালক তাঁর বাড়িতে গেলে শিশুটির মধ্যে আতঙ্কপূর্ণ আচরন লক্ষ্য করে পরিবার। পুনরায় ওই আশ্রমে যেতে রাজি না হওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। বারংবার না যাওয়ার ও আতঙ্কের কারন জানতে চাওয়া হলে শিশুটির কাছ থেকে কোনো উত্তর পায় না তারা। শিশুটির ওইরূপ আচরনে তাঁর পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়ে। বহু প্রচেষ্টার পর শিশুটিকে অভয় প্রদান করা হলে শিশুটি যে আশ্রমের মহারাজের যৌন হেনস্তার শিকার তা বিস্তারিত জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে চাইল্ড লাইনকে ঘটনাটি জানানো হয়। এরপর চাইল্ড লাইন ও পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মহারাজের বিরুদ্ধে গোবরডাঙা থানায় পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করে। ওই দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তর উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় সল্টলেকের বাসিন্দা ওই নাবালক ছোটোবেলা থেকেই গোবরডাঙার শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমে থাকতো। সেখানেই অবস্থিত মহারাজের শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাভবনে পড়াশোনা করতো সে। আশ্রমে থেকেই অভিযুক্ত দীর্ঘদিন যাবত ওই নাবালককে যৌন হেনস্তা করতো। ধৃতের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে গোবরডাঙা থানার পক্ষ থেকে ধৃতকে বারাসাত মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃত মহারাজের বর্তমান স্থান এখন পুলিশের হেফাজত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ধৃত মহারাজ একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যে ও তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। কথায় বলে ” স্বভাব যায় না মরলেও, আর মনের ময়লা যায় না হাজার বার ধুলেও।” একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় নিন্দার ঝড় উঠেছে আম জনতার দরবার সহ ওয়াকিবহাল মহলেও। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তর উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানানো হয়।
নিউজ এক ঝলকে
নিউজ হেডলাইন
জেলার খবর এক নজরেঃ
নিউজ এক নজরে


























