জমি মাফিয়ার তান্ডবে আতঙ্ক পরিবার
প্রাণ নাশের হুমকি ও পরে রাতে ভাঙচুর
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, বৈশাখী সাহাঃ বালি,মাটির পর এবার জমি মাফিয়াদের ভয়ানক তান্ডবের চিত্র উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়।জমি দখল করতে গিয়ে বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ায় ফোনে আসে প্রাণনাশের হুমকি। পরবর্তীতে দোকানে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতিরা। এরূপ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। থানায় অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও পুলিশের অসহযোগিতা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় জেলা পুলিশের দারস্থ হয় এক অভিযোগকারী। দত্তপুকুরের কদম্বগাছি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের কদম্বগাছি ফাঁড়ির লক্ষ্মীপুল গ্রামের বাসিন্দা অমিত ঘোষ নামে এক কাঁচ ব্যাবসায়ীর দোকান কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের হালিশহর মোড়ে। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার সকালে দোকান খুলতে গিয়ে তাঁর চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। রাতের অন্ধকারে তাঁর দোকানে ব্যপক ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতিরা। এমনকি দোকানের সামনে রাস্তার উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় কাঁচের টুকরো যা বিক্রির উদ্দেশ্যে দোকানে রাখা ছিল বলেই জানায় ব্যাবসায়ী। দোকান ভাঙচুরের ঠিক আগের দিন ফোনে প্রাণনাশের হুমকি, পরের দিন দোকান ভাঙচুর করে তান্ডব চালানোর ঘটনায় আতঙ্কে ব্যাবসায়ীর কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। এ প্রসঙ্গে কাঁচ ব্যাবসায়ী অমিত ঘোষ জানান স্থানীয় এক জমি মাফিয়া শ্যামল কাইপুত্র ওরফে পালান দীর্ঘদিন যাবত তাদের জমি দখলের চেষ্টা চালায়। জোর করে জমি দখল করতে গেলে অমিতের পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করা হয়। জমি দখল করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় প্রায়শই প্রাণনাশের হুমকি দেয় পালান। তৎক্ষনাৎ দত্তপুকুর থানা ও কদম্বগাছি ফাঁড়িতে ওই ঘটনার কথা বিস্তারিত জানানোর পাশাপাশি অভিযুক্তর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পুনরায় চলতি মাসের ১৮ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পর তাঁর ফোনে প্রাণনাশের হুমকি আসে বলে অভিযোগ। প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার অর্থাৎ ১৯ তারিখ সকাল ৮ টা নাগাদ তিনি দোকান খুলতে গিয়ে দেখতে পান রাতেই তাঁর দোকানে ব্যপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে একইসাথে ব্যাবসার জিনিসপত্রও ভেঙে তছনছ করেছে দুষ্কৃতিরা। অভিযোগের তীর জমি মাফিয়া শ্যামল কাইপুত্র ওরফে পালান ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে এমনটাই জানান অভিযোগকারী। পাশাপাশি তিনি এও বলেন এদিনের ঘটনা কদম্বগাছি পুলিশ ফাঁড়িতে জানাতে গেলে পুলিশ কোনো অভিযোগ নেয় না, ফলে দুষ্কৃতিদের তান্ডবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অমিত সহ তাঁর পরিবার এমনটাই জানান তিনি। কদম্বগাছি ফাঁড়ি ও দত্তপুকুর থানার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শেষমেশ তিনি জেলা পুলিশের দারস্থ হন। ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ওইরূপ দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তার জন্য জেলা সুপার, অতিরিক্ত আরোক্ষ অধীক্ষক ও এসডিপিও- র কাছে লিখিত অবেদনপত্র জমা দেন। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগকারীর প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে, অভিযুক্ত তাঁর কর্মফলের উপযুক্ত শাস্তি আদৌ পাবে তো!নিরাপদ জীবন তাঁরা অতিবাহিত করতে পারবে কিনা? সে নিয়ে প্রবল আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে অমিতবাবু ও তাঁর পরিবার।















