ক্রেডিট কার্ড না মেলায় আত্মহত্যার চেষ্টা বলে অভিযোগ
দাবদাহ লাইভ, অক্ষয় গুছাইত, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য মেয়েটা বারবার ছুটেছিল ব্যাংক থেকে কলেজ! কিন্তু প্রতি বারেই বাড়ি ফিরেছে খালি হাতে, মনের দুঃখে তাই নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে বলে অভিযোগ পরিবারের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভেয়েরবাজার এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায় জয়দেব দোলুই ও রিঙ্কু দলুই এর একমাত্র মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ভর্তি হয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজে। কোর্স ফিজ় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। ভর্তির সময়ে পাড়া প্রতিবেশীদের সাহায্য এবং নিজেদের তিল তিল করে জমানো টাকা দিয়ে মোট এক লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিল ছাত্রীর পরিবার। বাকি টাকা জোগাড় করার করার অন্য কোনো উৎস না থাকায় স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কোনওভাবেই ব্যাঙ্কের তরফে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়নি ওই ছাত্রীকে। অবশেষে মনের দুঃখে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন ওই ছাত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রী। পরিবারের দাবি, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড না পাওয়ার জন্যই আত্মহত্যার চেষ্টা। পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, এক লক্ষ টাকা জমা করেই ক্লাস শুরু করে ছাত্রী। তারপর স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে আবেদন করে । কিন্তু বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড পায়নি সে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর একাধিকবার ব্যাঙ্কে ঘুরেও ক্রেডিট কার্ড পাননি ছাত্রী। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড না পাওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন ওই ছাত্রী। পরিবারের সদস্যরা সেকথা বুঝতে পেরে মেয়েকে চোখে চোখে রাখতে শুরু করেন।ছাত্রীর মা রিঙ্কু দোলই বলেন,”নবান্ন থেকে শুরু করে বিকাশ ভবন একাধিকবার আমার মেয়েটা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য গিয়েছে। এমনকি ব্যাঙ্কে গিয়েছি বার বার, কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দিয়েছে।” দ্বিতীয় সেমিস্টারের আগে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কলেজে জমা দেওয়ার কথা থাকলে ছাত্রী আতঙ্কে ভুগছিলেন। যদি না টাকা জমা দিতে পারে, তাহলে পরীক্ষা দিতে পারবেন না। রবিবার রাতে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে আমচকাই ফাঁকা ঘরে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁর মুখ থেকে গ্যাজলা বের হচ্ছিল। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই ছাত্রী বিষ খেয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও ভাল নয়। এলাকার মানুষের অভিযোগ, যেখানে সরকার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে, সেখানে কেন ছাত্রছাত্রীরা তা দ্রুত পাবে না? এ প্রসঙ্গে চন্দ্রকোণা স্টেট ব্যাঙ্কের ম্যানেজার সান্টু কুমারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চারটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যু হয়েছে। তবে এই ছাত্রীর ক্ষেত্রে তথ্য সংক্রান্ত কিছু ত্রুটি রয়েছে। সেটি কলেজের দিক থেকেই। সে কারণেই তাঁকে স্টুডেন্টস ক্রেডিট পরিষেবাটি দেওয়া যায়নি। আবারও যোগাযোগ করলে, তা হেড অফিসে পাঠানো হবে।









