অষ্টম বর্ষের অকাল বিশ্বকর্মা পুজো
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, বৈশাখী সাহাঃ একই স্থানে বারংবার দূর্ঘটনা ঘটে মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত পয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। দূর্ঘটনা থেকে রক্ষার উপায়স্বরূপ ওই স্থানে বিশ্বকর্মা পূজা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। সেই মতো পূজার দিন নির্ধারিত হয় শ্রাবন মাসের শেষ শনিবার। যদিও এই পূজার নিয়মাবলি একেবারেই ভিন্ন। এই দিনে পূজার উপাচারের নানান দ্রব্য থাকলেও মূর্তির বদলে বিশ্বকর্মা রূপে ট্রেনকে পূজা করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শিয়ালদহ হাসনাবাদ শাখার কড়েয়া কদম্বগাছি রেল স্টেশন সংলগ্ন হেমন্ত বসুনগরের পূর্ব ইছাপুর এলাকার বাসিন্দারা প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও অকাল বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজন করে। সেইমতো এদিন স্থানীয় মহিলারা সকালে স্নান সেরে প্রথমে রেল লাইনের কিছুটা অংশ দুধ গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে শুদ্ধ করে নেয়। এরপর একটি চলন্ত ট্রেনকে লাল কাপড় দেখিয়ে ওই স্থানে দাঁড় করায়। এরপর ট্রেনটিতে ফুলের মালা পড়িয়ে নারকেল ফাটিয়ে শুরু হয় পূজার শুভ সূচনা। ফল, মিষ্টি, উলুধ্বনি, কাঁসর, ঘন্টা, ঢাক-ঢোল সহযোগে পূজাপর্ব সমাপ্ত করার পর ট্রেনের চালক, গার্ড সহ যাত্রীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরন করা হয়। পূজা শেষে পুনরায় ট্রেনটি গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য যাত্রা শুরু করে। এই অকাল বিশ্বকর্মা পূজা সম্পর্কে পূজার মূল উদ্যোক্তা দিলীপ ঘোষ জানান, ওই পূজার মূল উদ্দেশ্য হল ৭ নম্বর রেলগেট থেকে কড়েয়া কদম্বগাছি রেলগেট পর্যন্ত ট্রেনের ধাক্কায়, ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে বা চাপা পড়ে মৃত্যুর মতো দূর্ঘটনা প্রায়শই ঘটতো। কয়েক মাসে ওই এলাকায় আট জন ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। প্রায় দিনই ওইরূপ দূর্ঘটনা ঘটতে থাকায় শিউরে ওঠেন তারা। ওই এলাকায় ওইরূপ দূর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, মূলত যাত্রীদের মঙ্গল কামনায় ২০১৪ সালে শ্রাবন মাসের শেষ শনিবার ওই স্থানে তারা প্রথম এই অকাল বিশ্বকর্মা পূজা শুরু করেন। তারপর থেকে প্রতি বছর তারা এই পূজা করে আসছেন। এ বছর তাদের প্রচলিত পূজা অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান ট্রেন যাত্রী সহ স্থানীয় মানুষের মঙ্গল কামনার্থে তারা অকাল বিশ্বকর্মা পূজা করার পর থেকে ওই এলাকায় আর ওইরূপ দূর্ঘটনা না ঘটায় তারা আনন্দিত। অতএব মানুষের মঙ্গল কামনার্থে প্রতি বছর তারা ওই স্থানে একই পদ্ধতিতে এই পূজা করবেন বলে জানান দিলীপ ঘোষ।
নিউজ এক নজরে




































