রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি প্রবীণ লোকশিল্পীর
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠিতে দেশের সম্মান রক্ষার আর্জি জানিয়ে প্রবীণ লোকশিল্পী বিমল নন্দীর আত্মহত্যার হুমকি
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, অক্ষয় গুছাইতঃ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়ার বাসিন্দা বিমল নন্দী। আশি – নববইয়ের দশকে যার ঢাকের বোলে নেচে উঠত গোটা বাংলা। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে আজ এই প্রবাদ প্রতিম লোকশিল্পী উদ্বাস্তু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাবড়ার তেঁতুলতলা রেল কলোনিতে। ১৯৮২ সালে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত নবম এশিয়াডে একজন কৃতিমান ঢাক বাদক ছিলেন বিমল নন্দী। সত্তরোর্ধ এই শিল্পীর শরীরে বাসা বেঁধেছে হৃদরোগ । বৃদ্ধ বয়সে সরকারী স্বীকৃতি কিংবা অনুদানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বিমলবাবু । ঢাক বাজানোর পাশাপাশি দেশপ্রেমের ক্ষেত্রেও অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বিমল নন্দী।প্রবাদ প্রতিম এই লোকশিল্পীর সাথে কথা বলে জানা যায় ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট বাংলার একটি প্রথম সারির দৈনিকে রামদেবের পতঞ্জলির পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে রামদেবের ছবির নিচে নেতাজী, গান্ধীজি , ভগৎ সিং ও অন্যান্য দেশ নায়কদের ছবি ছাপানো হয়েছিল । একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর। গান্ধী জন্মজয়ন্তীতে বাংলার একটি বহুল প্রচলিত দৈনিকে রাম দেবের পতঞ্জলির পক্ষ থেকে সেই একই বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। বারে বারে দেশ বরেণ্য মনীষীদের এইভাবে ছোট করে দেখানোর তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লেখেন তিনি । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এর আগে এরকম প্রতিবাদী চিঠি কেউ লেখেননি। চিঠি লেখা সত্ত্বেও কয়েকমাস পর ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ বহুল প্রচলিত একটি বাংলা দৈনিকে একই ভাবে রামদেবের ছবির নিচে ভগৎ সিং , রাজ গুরু সুখদেবের ছবি সম্বলিত বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। এর ঠিক মাস খানেক পরে ৩০ মে ২০১৭ তারিখে আবার একটি বাংলা দৈনিকে রামদেবের ছবির নিচে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এবারেও প্রতিবাদ করেন বিমলবাবু । নিজের এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে আক্ষেপের সুরে এই বর্ষিয়ান লোকশিল্পী বলেন, ” ভারতীয় মনীষীদের এইভাবে বারে বারে অপমান করার প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলাম। আমার এই প্রতিবাদ এবং লোকশিল্পীর মর্যাদা স্বরূপ একটি সরকারি স্বীকৃতি চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনও স্বীকৃতির বদলে পেয়েছি লোক দেখানো গোটা দশেক চিঠি।
তবে ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে এপর্যন্ত আর এই ধরনের বিজ্ঞাপন আমার নজরে আসেনি।”দেশের মানুষকে জাতীয়তা বোধে উদ্বুদ্ধ করতে ২০০৮ সালে ‘দেশ আমার’ নামে একটি অভিনব দেশাত্মবোধক সিডি ক্যাসেট প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবান করার উদ্দেশ্যে এবং স্বচ্ছ ভারত গড়ে জেলার মূল মন্ত্রে দীক্ষিত করার প্রয়োজনে, ভারতবর্ষে প্রথম এধরনের দেশাত্মবোধক সিডি ক্যাসেটটি প্রকাশ করতে গিয়ে নিজের বসত বাড়িটি বিক্রি করে উদ্বাস্তু হই।” হতভাগ্য এই লোকশিল্পীকে তৎকালীন রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনও রকম প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ। নিজের কর্মকাণ্ডের বিবরণ জানিয়ে চলতি মাসের ৬ তারিখ ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মুকেও চিঠি লিখেছেন তিনি। আগামী দু ‘মাসের মধ্যে চিঠির উত্তর কিংবা জাতীয় স্বীকৃতি না পেলে। ‘আত্মহত্যা’ করার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান প্রখ্যাত ঢাক বাদক তথা প্রবীণ লোকশিল্পী বিমল নন্দী।



















