ছেলে মাকে হাবরা স্টেশনে ছাড়লে পৌরপ্রধানের তত্ত্বাধানে বৃদ্ধাশ্রমে
বৃদ্ধা মায়ের বর্তমান স্থান “বৃদ্ধাশ্রম”
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ বর্তমানে কতটা অমানবিক তারই একটি ঘটনা তুলে ধরা হল। শত কষ্ট সহ্য করেও আদর যত্নে ভরা মাতৃস্নেহের আঁচলে সন্তানকে ছোট থেকে বড়ো করে তোলেন একজন মা। সংসার জীবনে পদার্পণ করার পর এক সময় সন্তানের সংসারে সেই মা-ই হয়ে ওঠেন বৃহৎ আকারের বোঝা। আর সেই বোঝাকে সংসার থেকে সরিয়ে ফেলতে মনে মনে ফন্দী আঁটে সন্তান। সেই অনুযায়ী বেড়াতে যাবার নাম করে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ট্রেনে চেপে আনন্দ সহকারে যাত্রা শুরু করে অসহায় মায়ের গুনধর ছেলে। এরপর অচেনা অজানা একটি স্টেশনে নেমে মাকে ছেড়ে চলে যায় মায়ের সেই আদরের ছেলেটি। দিন শেষে রাত নামলেও দেখা মেলে না ছেলের। কিন্তু “ছেলে ঠিক আসবে ফিরে মায়ের কাছে” মনে এমনই একরাশ আশা নিয়ে পথপানে দুচোখ মেলে তাকিয়ে সারাদিন ছেলের প্রতীক্ষায় বসেছিলেন অসহায় সেই বৃদ্ধা মা। প্ল্যাটফর্ম চত্বরে থাকা দোকানীরাই বৃদ্ধার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে। রাতে খবর পেয়ে স্থানীয় পৌরপিতা সেই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। প্ল্যাটফর্মে ছেলের প্রতীক্ষায় বসে থাকা অসহায় সেই বৃদ্ধার বর্তমান স্থান “বৃদ্ধাশ্রম”। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার হাবরা স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সোমবার সকাল থেকে একটি দোকানের সামনে বসেছিলেন ওই বৃদ্ধা। প্ল্যাটফর্ম চত্বরে থাকা দোকানীরা জানায়, এদিন সকালে বৃদ্ধা তাঁর ছেলের সাথে ট্রেন থেকে নামে। প্ল্যাটফর্মে বসে দীর্ঘক্ষন দুজনে কথাবার্তাও বলে। তারপর ছেলেটি হঠাৎই কোথাও চলে যায়। তারপর থেকে বৃদ্ধাকে আকুল নয়নে তাকিয়ে বসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। দিন শেষে রাত নামে। স্টেশন চত্বরের জনকোলাহল ধীরে ধীরে সীথিল হতে শুরু করে। তবুও ছেলের দেখা না মেলায় শেষমেশ হাবরা পৌরসভার পৌরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে খবরটি জানায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পৌরপিতা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান “বিবেকানন্দ ভবন” নামক পৌরসভার বৃদ্ধাশ্রমে। তিনি জানান বিবেকানন্দ ভবনে অসহায় বয়স্ক বহু মানুষ আছেন, যাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে। অসহায় বৃদ্ধা ৮০ বছরের সরজু মন্ডল জানান, বেহালার ঠাকুরপুকুর এলাকার একটি বাড়িতে স্ব-স্ত্রীক ভাড়া থাকে তাঁর বড় ছেলে কৃষ্ণ মন্ডল। তাদের কাছেই থাকতেন তিনি। সংসারে তাঁর সাথে বউমা প্রায়শই ঝামেলা করে। বউমা ঘরে থাকাকালীন তিনি ঘরে প্রবেশ করতে পারেন না। সারাদিন বাড়িওয়ালার ঘরেই কাটান। রাতে ছেলে বউমা খাবার খেয়ে তাদের ঘরে চলে যাবার পর ছেলের অনুমতিতে তিনি খাবার খান। এভাবেই চলছিল তাঁর বৃদ্ধকালের জীবনযাত্রা। ছেলে কৃষ্ণ এদিন আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে তাঁকে ট্রেনে করে নিয়ে এসে হাবরা স্টেশনে নামে। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর বৃদ্ধা মাকে তাঁর ছেলে বসতে বলে চলে যায়। অনেকক্ষন অপেক্ষা করলেও ফিরে আসেনি তাঁর ছেলে কৃষ্ণ। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও বৃদ্ধা মায়ের বিশ্বাস, কৃষ্ণ তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে আসবেই। এক্ষেত্রে ছেলের ভুমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।এখন দেখার বিষয় বৃদ্ধার ছেলে সত্যিই কি আসবে তাঁর মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেবার জন্য? নাকি স্টেশনে একাকি রেখে পালিয়ে যাওয়া কৃষ্ণের মায়ের জীবনের শেষ আশ্রয়স্থল হবে হাবরার বিবেকানন্দ ভবন নামক “বৃদ্ধাশ্রম”।









