বোমা উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা

কোটরা থেকে বোমা উদ্ধার দত্তপুকুর থানার পুলিশ
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, বৈশাখী সাহাঃ সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর এই পঞ্চায়েত নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে সুসম্পন্ন হয় সেদিকে তাকিয়ে যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল। ঠিক এই সময় বারাসাতের কোটরা পঞ্চায়েত এলাকার একটি কবরস্থান থেকে তাজা বোমা উদ্ধার হয়। সেগুলো নিষ্ক্রিয়করন করাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় ব্যপক শোরগোল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত বারাসাত ১ নম্বর ব্লক এর কোটরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিয়ানই গাজীপাড়ার একটি কবরস্থানে জঙ্গল পরিস্কার করতে গিয়ে হঠাৎ কবরস্থানে থাকা বাঁশ ঝাড়ের কাছে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের ড্রাম নজরে আসে এক ব্যাক্তির। সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যক্তি স্থানীয়দের ডেকে সেটি দেখালে জানা যায় ড্রামটিতে তাজা বোমা মজুত রয়েছে। কথাটি চাউর হতেই আতঙ্কের বাতাবরন সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি দত্তপুকুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটিকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে, একইসাথে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোম স্কোয়াডকে খবর দেয়। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় কোনোরূপ দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় এদিন ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইন্জিন ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসা হয়। বোম স্কোয়াডের কর্মীরা এদিন বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ড্রাম থেকে মোট ৮টি তাজা বোমা উদ্ধার করার পাশাপাশি এলাকায় আর কোথাও বোমা মজুত করা আছে কিনা জানার জন্য ভাল করে তল্লাশি চালায়। এরপর উদ্ধারকৃত বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায়। ওই মাঠের চারপাশ থেকে লোকজন সরিয়ে দেবার পর উদ্ধারকৃত ৮ টি তাজা বোমা তিনবারে নিষ্ক্রিয় করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে যায় বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর। বোমা মজুতের ঘটনা ওই এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি, বর্তমানে এলাকা একেবারে শান্ত বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে কে বা কারা ওই স্থানে বোমা মজুত করেছিল? তাদের উদ্দেশ্যই বা কি ছিল? সমস্ত প্রশ্নের উত্তরের সন্ধান পেতে তদন্তে নেমেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। কবরস্থান থেকে বোমা উদ্ধার প্রসঙ্গে বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস মিত্র জানান, তারা বারংবার বলে এসেছে বাংলা এককথায় বারুদের স্তুপের উপর দাঁড়িয়ে আছে। সেটা কতটা বাস্তব, কবরস্থান থেকে উদ্ধার করা বোমা-ই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগেই বীরভূম থেকে প্রায় ৫০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। বাংলার সরকার এত উন্নয়ন করেছে যে মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে জেনেই বিভিন্ন জায়গায় আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা মজুতের কাজ চালাচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মানুষের মনে ভীতি স্থাপন করে, বুথ লুট করে যে পদ্ধতিতে পৌর নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে, ঠিক সেইভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি তৃণমূল নিচ্ছে বলে তাঁর ধারণা। পাশাপাশি তাপসবাবু বলেন প্রশাসনের কাছে তাঁর অনুরোধ, অবিলম্বে ওই ঘটনার উপর সজাগ থেকে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করার। মানুষ যদি তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতেই না পারে, তাহলে নির্বাচন অর্থহীন। তাপসবাবুর ওইরূপ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বারাসাত ১ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মহঃ ইছা সর্দার জানান তৃণমূলের বোম মেরে ভোট করতে হয় না, বিরোধীদের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বোমা মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন বছর খানেক আগে ওই এলাকায় খুব চুরি-ডাকাতি হত। কবরস্থানে কেউ যাতায়াত করে না বলে অনেকটাই নিরাপদ বুঝেই সেই সময় ওই স্থানে কেউ বোমা মজুত করে রেখেছিল। ওই ঘটনার সাথে তৃণমূল কোনোভাবেই যুক্ত নয়। পাশাপাশি তিনি এও বলেন পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় বর্তমানে এলাকা একেবারেই শান্ত। তবে বোমা মজুতের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান মহঃ ইছা সর্দার। তবে কবরস্থানে কে বা কারা, কি উদ্দেশ্যে এক ড্রাম বোমা মজুত করেছিল, তার সঠিক উত্তরের অধীর অপেক্ষায় এলাকাবাসী।









