দুয়ারে রেশন থাকবে নাকি বন্ধ হবে ?

বিধায়কের মতামত চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, মহঃ মফিজুর রহমান: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক পুরনো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে, তখন নজরে এসেছে ‘দুয়ারে রেশন’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া এই প্রকল্প আদৌ চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এবার সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করল রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে রাজ্যের সব বিধায়কের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁদের মতামত চাইলেন রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এই চিঠি শুধু শাসকদলের বিধায়কদের কাছেই নয়, বিরোধী বিধায়কদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি চালু রাখা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের মতামতও বিবেচনায় নিতে চাইছে সরকার। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি এই জনমুখী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয় বার সরকার গঠনের পর উপভোক্তাদের সুবিধার্থে বাড়ির কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি চালু করা হয়। এর ফলে রেশন দোকানে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা না করে উপভোক্তাদের দোরগোড়ায় খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে রেশন ডিলারদের একাংশের আপত্তি ছিল। বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সমস্যার কথা তাঁরা জানিয়েছিলেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়ায়। ২০২৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্পটির বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, জেলায় জেলায় ঘুরে তিনি প্রকল্পটি নিয়ে নানা অভিযোগ শুনেছেন। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি তিনি মন্ত্রিসভা এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি না নিয়ে প্রথমে জনপ্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার পথে হাঁটছে সরকার। বিধায়কদের কাছে পাঠানো চিঠিতে মূলত দুটি বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, ‘দুয়ারে রেশন’-এর মাধ্যমে সাধারণ উপভোক্তারা বাস্তবে কতটা উপকৃত হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে প্রকল্পটি ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়া কতটা সমীচীন। খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, সরকার জনগণের সরকার এবং কোনও নীতি গ্রহণের আগে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ২৯৪ জন বিধায়কের মতামত সংগ্রহ করার পর সিংহভাগ মত যে দিকে থাকবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির পর্যালোচনা চলবে বলেও জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। ফলে পুজোর আগে প্রকল্পটি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত আসে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ‘দুয়ারে রেশন’ বন্ধ হবে, নাকি অভিযোগ খতিয়ে দেখে নতুন কাঠামোয় প্রকল্পটি চালু রাখা হবে—শেষ পর্যন্ত ২৯৪ জন বিধায়কের মতামত এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

0 Comments

Leave a Comment