কোনও দুর্ঘটনাই আকস্মিক নয় – রাজ্যপাল
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শুক্রবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে মন্তব্য পেশ করেন তিনি। বোস বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রশাসন তদন্ত করলে ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে। তবে কোনও দূর্ঘটনাই আকস্মিক নয়। প্রতিটি ঘটনার পিছনে কোনও না কোনও কারণ থাকে।” তাঁর কথায়, প্রশাসনিক সতর্কতা ও পূর্ব প্রস্তুতির অভাব অনেক সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকাগুলিতে ভবিষ্যতে যাতে ওই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য আগ্রীম ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরী বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি ওইরূপ জায়গাগুলিতে নিয়মিত ফায়ার অডিট করা আবশ্যক বলেও জানান। তিনি এও বলেন, উপযুক্ত সময় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াই প্রশাসনের দায়িত্ব। ঘটনার পর কেবল দায় ঠেলাঠেলি বা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কোনও লাভ হবে না। বরং এই মুহূর্তে প্রশাসনের উচিত, ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে। একজন রাজ্যপাল হিসেবে তিনি গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রশাসনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি পরামর্শ এমনকি নির্দেশও দেবেন বলে জানান। এদিন ব্যারাকপুরের কর্মসূচির পর আনন্দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা বারোটার পর তিনি আনন্দপুরে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বলে সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আনন্দপুর এলাকার নাজিরাবাদে ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার একটি কারখানা ও গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন লাগে। রাতে বহু সংখ্যক কর্মী সেখানে ছিলেন। বাইরে থেকে গেট বন্ধ থাকায় ঘটনাস্থলেই বহু জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৫ টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ডেকোরেটর্স সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে। বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালত মারফত ৭ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ওই সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীট ও ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার ধৃত ওই দু’জনকে আদালতে পেশ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধারকার্যে নিযুক্ত কর্মী সূত্রে জানা যায়, ২৭ জনের নামে নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন আত্মীয় পরিজনরা। কিন্তু কারখানা ও গোডাউনটি আগুনে পুড়ে এতটাই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে যে, উদ্ধার কাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। ২৫ জনের দেহাংশ মিললেও, আরও দেহাংশ উদ্ধারের সম্ভাবনা আছে বলে জানান তাঁরা।
কোনও দুর্ঘটনাই আকস্মিক নয় - রাজ্যপাল
0%



















