ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে ধৃত সরকারি আধিকারিক
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ এক নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয় ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর মহকুমার সোনারপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার এক তরুণী ও তাঁর পরিবার সোনারপুর থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এই মর্মে যে, পরিবার পরিচিতির সুযোগ নিয়ে এক সরকারি আধিকারিক নাবালিকা থাকাকালীন ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং গোপনে কিছু ছবি ও ভিডিও তুলে রাখে। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করবে বলে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা পুলিশের দারস্থ হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক অমিত দে-কে গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, নির্যাতিতার বাবা পেশায় কলের মিস্ত্রি। তিনি অভিযুক্ত অমিতের বাড়িতে ২০১৯ সালে পাইপ লাইনের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেই সুবাদে ধীরে ধীরে দুই পরিবারের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয় পরিবারের মধ্যে যাতায়াত শুরু হয়। পিতৃ পরিচয়ে ওই তরুণী অভিযুক্তকে কাকু বলে ডাকতেন। সেই সময় তরুণী ছিলেন নাবালিকা। পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত প্রায়শই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে অন্যত্র যেতেন। নির্যাতিতার কথায়, নাবালিকা থাকাকালীন ঘুরতে যাওয়ার নাম করে একদিন অভিযুক্ত তাঁকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বলপূর্বক ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও গোপনে ক্যামেরাবন্দী করে রাখে সে। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে দেবে বলে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে বছরের পর বছর তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে বলে দাবি। তাঁর আরও দাবি, সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পেয়ে, অভিযুক্ত ওই তরুণীর হবু শ্বশুরবাড়িতে হাজির হয়ে সেই বিয়ে ভেঙে দেয়। একইসাথে ছবি, ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল করারও হুমকি দেয়। শেষমেশ আতঙ্কিত হয়ে তরুণী ও তাঁর পরিবার সোনারপুর থানার দারস্থ হওয়ায় তৎপর হয় পুলিশ। তদন্তে নেমে ওই রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধৃত ব্যাক্তি বিবাহিত। তাঁর সন্তানও রয়েছে। এহেন ঘটনায় ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে বারুইপুর আদালত মারফত নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার পাশাপাশি, ধৃতের মোবাইল ফোনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় সোনারপুর থানার পুলিশ।
ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে ধৃত সরকারি আধিকারিক
0%


















