বইমেলায় তিয়সা মুখার্জীর বই প্রকাশ
দাবদাহ লাইভ, কোলকাতা বইমেলা, সুমাল্য মৈত্রঃ কথায় আছে না যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। আবার এও বলা যায় প্রতিভা থাকলে একদিন না একদিন ঠিকই প্রকাশ পাবে তা সে যে ভাবেই হোক না কেন ,যার গুন আছে তাকে যে কাজই দেওয়া হোক না কেন তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে অন্য উচ্চতায় এবং নিদর্শন হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পার্শ্ববর্তী শহর মধ্যমগ্রামের দেবিগড়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তিয়াসা মুখার্জী, পড়াশোনাতেও অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী হিসেবে ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ দিয়েছে সে, পড়াশোনা তার গান নিয়েই নিজেও যথেষ্ট সুকন্ঠি ,তার গান নিয়ে চলা শুরু হয় তার ঠাকুমাকে দেখেই , পরবর্তী সময়ে সেই ধারা বয়ে নিয়ে যায় তিয়াসা মুখার্জী। ইতিমধ্যেই কল্যাণী ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্সে ফাস্ট হয়েছে তিয়াসা এবং চতুর্থ সেমিস্টারে ডিজাইটেশনে এই প্রজেক্টটা নির্বাচন করা হয়েছে বলে আমাদের জানালেন গবেষক ও লেখিকা তিয়াসা মুখার্জী। নিজের পড়াশোনার বিপুল চাপ পাশাপাশি বইমেলায় নিজের বই সহ অন্যান্যদের বই প্রকাশ করা,হ্যাঁ ওর একটা নিজস্ব প্রকাশনাও আছে, সম্পাদনা করে একটা সাহিত্য পত্রিকাও তার পাশাপাশি সমান যত্ন নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে আগমনী ও বিজয়ার গানের বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া অতীত ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে দুই মলাটের অত্যন্ত যত্ন করে প্রকাশ করেছেন লেখিকা ও গবেষিকা। গবেষক ও লেখিকা তিয়াসা মুখার্জী আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে দাবদাহ ডিজিটালের মুখোমুখি হয়ে জানালেন এই কাজের জন্য জাতীয় গ্রন্থাগার থেকে ভারতীয় জাদুঘর পাশাপাশি বনগাঁ সহ বিভিন্ন এলাকায় গেছেন এই গবেষণা ধর্মী কাজের জন্য। লেখিকা সাক্ষাৎকারে আমাদের জানালেন জাতীয় গ্রন্থাগারে তার কাজের উপযোগী কিছু বই পেলেও বইপাড়ায় তার কাজের উপযোগী বই তিনি পাননি। তার এই গবেষণা ধর্মী কাজ করতে গিয়ে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতেও হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন। পাশাপাশি তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন সাধারণ মানুষ পুজোর গান বলতে বোঝে পুজোর গান আর বিজয়ার গান বলতে এখন যা হয় সে ব্যাপারটা প্রকৌশলে এড়িয়ে গেছেন লেখিকা তিয়াসা মুখার্জী,এই কাজ করতে গিয়ে যখন ফিল্ডে নামতে হয় তখন দেখা গেল আগমনী গান নিয়ে কারুরই কোনো জ্ঞান নেই যেটা আমাদের বাংলার নিজস্ব কৃষ্টি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন এখনো যেভাবে বাউল/ কীর্তন সকলে শোনেন সেই পথে বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া অতীত দিনের আগমণী ও বিজয়ার গান ফিরে আসুক তার এই বই প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আবার লেখিকা তিয়াসা মুখার্জী সকলের সামনে তুলে ধরলেন। এই আগমণী আর বিজয়ার গানে মোট কুড়িটা গান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবদাহ ডিজিটাল থেকে লেখিকাকে প্রশ্ন করা হয় আগেকার দিনের গায়ক গায়িকাদের পুজোর গান এখন যেভাবে রিমেক হচ্ছে সেটা কিভাবে দেখছেন, জবাবে লেখিকা জানিয়েছেন রিমেকের মাধ্যমে সেই আমলের গায়ক গায়িকাদের গানকে অমর্যাদা করা হচ্ছে কিনা সেটা বিতর্কের বিষয় তিনি যেহেতু নিজে গানেরই ছাত্রী এই বিষয়ের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে অনেকটাই এড়িয়ে গেছেন বিতর্কের কারণে। পাশাপাশি তিনি সুন্দর করে আগমনী বিজয়ার গানের চরিত্র বোঝাতে তুলে ধরেন মূল চরিত্র। গৌরি/ উমা/ হিমালয় ও মহাদেব এবং তার বর্ণনাও করেন চমৎকার ভাবে।যদিও লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে আসা পাঠক পাঠিকারা সেভাবে এই বই কিনছেনও না বলে জানিয়েছেন লেখিকা তিয়াসা মুখার্জী। আগমনী বিজয়ার গানে ঐতিহ্যবাহী বঙ্গ জীবনের প্রতিবিম্বন একটা বিশ্লেষণ এই বই করার সময় রামপ্রসাদের গাওয়া বেশ কিছু গান লেখিকা শ্রবণ করেছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে বলেছেন। আমরা আশা করি এই বইএর মধ্যে দিয়ে বঙ্গ জীবনে আবার আগমনী বিজয়ার গানের সেই হারিয়ে যাওয়া অতীত ঐতিহ্য সংস্কৃতি ফিরে আসবে স্বমহিমায়।


















