যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি দর্শনে আশাভঙ্গ
দাবদাহ লাইভ, সল্ট লেক সিটি, সুমাল্য মৈত্রঃ শনিবার সকাল থেকেই বাইপাস সংলগ্ন যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গন সেজে উঠেছিলো নীল সাদা রঙে,সব কিছুই ছিলো সাজানো গোছানো কাতারে কাতারে মানুষ এসে উপস্থিত হয়েছিলেন যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনে উপলক্ষ তারা একবার স্বচক্ষে ফুটবলের কিংবদন্তি মেসিকে দেখবেন । এ পর্যন্ত সব কিছুই ঠিকঠাকই চলছিলো। বিভিন্ন দূর দূরান্ত থেকে আসা মেসি প্রেমিরা নিজেদের রাঙিয়ে তুলেছিলেন নীল সাদা রঙে প্রায় সবার গায়েই ছিলো মেসির নামাঙ্কিত দশ নম্বর জার্সি। যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গন শনিবার সকালে তখন মেসি মেসি গর্জনে চারিদিক ভরে উঠেছে,তার কিছুক্ষণ আগেই স্টেডিয়াম সংলগ্ন এক অভিজাত হোটেল থেকেই ভার্চুয়ালি নিজের মূর্তি উদ্বোধন করেন মেসি নিজেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনীক ধরের সঙ্গীত এর মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, এছাড়াও এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নৃত্য পরিবেশনও ছিলো। দ্বিতীয় পর্বে ছিলো মোহনবাগান ভার্সেস ডায়মন্ড হারবার এর মধ্যে একটা ম্যাচ।সেই ম্যাচে দই দলের খেলোয়াড়রাই মেসিকে সন্মান জানিয়ে দশ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামেন। খেলা চলাকালীন মাঠে আসে মেসির গাড়ি, সাথে ছিলেন সুয়ারেজ,তখন মাঠে মেসি মেসি গর্জনে কান পাতা যাচ্ছে না,তখন মাঠের যে দিকেই তাকানো সেদিকেই নীল সাদা জার্সি,যেন একটুকরো আর্জেন্টিনাই উঠে এসেছিলো শনিবার শীতের সকালে যুব ভারতী ক্রিয়াঙ্গনে। যদিও মাঠে বেশী সময়ের জন্য থাকেননি ফুটবলের রাজপুত্র। সারাক্ষন তাকে ঘিরেই ছিলেন শাসক দলের বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীরাই,ফলে বিভিন্ন আসানসোল/ চিত্তরঞ্জন/ বাঁকুড়া / আসাম সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন মেসি প্রেমিরা।মেসি যতোক্ষণ মাঠে ছিলেন তাকে ঘিরেই ছিলেন একটা দল,ফলে দর্শক এবং মেসি প্রেমিরাও বঞ্চিত হয় মেসি দর্শনে।মাঠে অল্প সময়ের জন্য এসে বেরিয়ে যায় ফুটবলের রাজপুত্র, তারপরেই মাঠের মধ্যে আবহাওয়া পুরো বদলে যায়।চড়া দাম দিয়ে টিকিট কেটেও শনিবার তেরই ডিসেম্বর মেসি দর্শন করতে পারলেন না মাঠে আসা আপামর মেসি প্রেমিরা ।যার ফলে মাঠের পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যায়। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা দর্শকরা মাঠের ভেতর চেয়ার / বোতোল ফেলতে থাকে। এবং একটা সময়ে মাঠের মধ্যে ঢুকে গিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা ছিঁড়ে ফেলে দেয় গোলপোস্টের জাল। রীতিমতো তান্ডব চলে গোটা মাঠ জুড়ে। যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গন জুড়েই রীতিমতো রণক্ষেত্রের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলেও পুলিশ ছিলো দর্শকদের ভূমিকায়। আমাদের সংবাদ মাধ্যম দাবদাহ ডিজিটালের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মেসি প্রেমিরা আঙুল তুলেছেন আয়োজক / উদ্যোগতা এবং সরকারের ওপরেই তাদের ক্ষোভ উগরে দেয়। চড়া দাম দিয়েও টিকিট কেটেও স্বপ্নের খেলোয়াড়কে কাছ থেকে দেখতে না পাওয়ার জন্যই মাঠে আসা দর্শকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। আধঘন্টা ধরে চলে মাঠের চেয়ার ভাঙচুর করা ও বোতল ছোঁড়া । শেষে মাঠের মধ্যেই ঢুকে পড়ে নাগারে ক্ষোভে ভাঙচুর করে মাঠে আসা মেসি প্রেমিরা। তাদের দাবি একটাই চড়া দামে টিকিট কেটেও স্বপ্নের খেলোয়াড়কে কাছ থেকে দেখতে পারলাম না। একবুক হতাশা ও কষ্ট নিয়েই ঘরে ফিরলেন মেসি প্রেমিরা। অনেকেই বাড়ি ফেরার পথে চেয়ার ফুলের টব নিয়ে সাথে নিয়ে যায়, কার্যত এটা যে আয়োজক এবং উদ্যোক্তাদের ওপর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।আয়োজক উদ্যোগতাদের এই অব্যবস্থাপনার কারণেই শনিবার বেলার দিকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হয়ে উঠে যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গন জুড়েই। বিশ্বকাপার এনে দর্শকদের মন জয় করতে ব্যার্থ আয়োজক/ উদ্যোগতা এবং ফুটবলের মক্কা কলকাতা। এক লজ্জাজনক শনিবার হয়ে থাকলো আজীবনের জন্য।
নিউজ এক ঝলকে
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি দর্শনে আশাভঙ্গ
97%

















