ভোটার কার্ড উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ ২০২৬ এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রমশই উদ্ধার হয়ে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ নথি। পুনরায় আবর্জনার মধ্যে থেকে বিপুল পরিমান ভোটার কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। নদিয়া জেলার রাণাঘাট মহকুমার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত উদয়পুর এলাকা সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক পার্শ্বস্থ এলাকার ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সাতসকালে ওই জাতীয় সড়ক পার্শ্বস্থ আবর্জনার স্তূপে কয়েকটি বস্তা দেখতে পান স্থানীয় কিছু মানুষ। একটি বস্তার ফাটা অংশ থেকে ভোটার কার্ড বেরিয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হওয়ায়, একজন ব্যাক্তি তাঁর পা দিয়ে ওই বস্তাটিতে নাড়া দেয়। সাথে সাথেই বস্তাটি থেকে বেরিয়ে পড়ে বেশ কিছু সংখ্যক ভোটার কার্ড। ঘটনাটি চাউর হতেই বহু মানুষ ভীড় জমায়। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিষয়টি শান্তিপুর থানায় জানানো মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বস্তার মুখ খুলতেই সকলের চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। উদ্ধার হয় বিপুল সংখ্যক ভোটার কার্ড। বস্তার মধ্যে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ভোটার কার্ড, সঙ্গে বেশ কিছু কাগজপত্র রাখা ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলো বেশিরভাগই উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ও বসিরহাটের। তবে ভোটার কার্ডে নাম থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু জাতীয় সড়কের পাশে থাকা নোংরা আবর্জনায় কিভাবে এল ওই বস্তা গুলো, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কে বা কারা কখন কেন কোথা থেকে ওই বস্তা নিয়ে এসে ফেলে গেছে সেখানে, উঠেছে এমনই নানান প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর পেতে তদম্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে রাত পোহালেই নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে জনসভায় হাজির হবার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়েই তাঁর ওই জনসভায় যাওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার ঠিক আগের দিনই ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ থেকে ভোটার কার্ডগুলি উদ্ধারের ঘটনায় স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তপন সরকার জানান, “মুখ্যমন্ত্রী এই ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়েই নদিয়া সফরে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীকে কালিমালিপ্ত করতেই, বিজেপি সবার অলক্ষ্যে অন্য জেলা থেকে ওই কার্ড সংগ্রহ করে নিয়ে এসে ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে।” অন্যদিকে “তৃণমূলের অধীনস্ত পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ওই বস্তাবন্দী ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। তৃণমূল ওই কার্ড ও বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের সহযোগেই ছাপ্পা ভোট দিয়েছিল বলেই, এখনও ক্ষমতায় টিকে আছে। ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনা তারই প্রমাণ।” এমনটাই জানান বিজেপি-র রানাঘাট সংগঠনিক জেলা সম্পাদক সোমনাথ কর।
ভোটার কার্ড উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
0%

















