নদী বাঁধে ফাটল, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
দাবদাহ লাইভ, বসিরহাট, বৈশাখী সাহাঃ নদী বাঁধে দীর্ঘ ২০ ফুট জুড়ে আচমকা ফাটল দেখা দেয়। সেই ফাটল দিয়ে চাষের জমিতে জল ঢুকতে শুরু করায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। একাধিক জায়গা থেকে চাষের জমিতে নদীর নোনা জল প্রবেশ করায় বিপুল পরিমান ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদের। কান্নায় ভেঙে পড়ে স্থানীয় মানুষজন। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহাকুমার প্রত্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চল সংলগ্ন হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদা বাঁশতলা এলাকার গৌড়েশ্বর নদী বাঁধের ঘটনা। স্থানীয়দের কথায়, একমাত্র ধান চাষ-ই তাদের উপার্জনের একমাত্র পথ। বর্ষা এলেই প্রতিবছর নদীর বাঁধ ভেঙে এলাকায় জল প্রবেশ করে। ফলে প্লাবিত হয় বহু গ্রাম। এমনিতেই এ বছর প্রবল বর্ষনের জেরে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এবার ৬ মাস যাবত বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে সেই ফাটল বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। বহুবার পঞ্চায়েত প্রধান, মেম্বার, প্রশাসনিক কর্তাদের তাঁরা বিষয়টি জানালেও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ তাঁদের। বায়্ধের ওই ফাটল দ্রুত মেরামত না করা প্রয়োজন। নইলে নদীর নোনা জল এলাকার চাষের জমিতে প্রবেশ করলে বিপুল পরিমান ক্ষতির সম্ভাবনা। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ওই বাঁধ সংস্কার করা হোক। এ বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বন ও ভূমির কর্মাধ্যক্ষ সুরজিৎ বর্মন বলেন, বিষয়টা এডুকেশন দপ্তরের কাছে জানানো হয়েছে। শিক্ষা দপ্তর বিষয়টি দেখছে। রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদা মোড়ের কাছে গৌড়েশ্বর নদী বাঁধে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, সেটা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুলে বলেন, তিন থেকে চার বছর যাবত তাঁরা কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার শিকার হওয়ায়, বাঁধ মেরামতির কাজ করতে পারছে না। নইলে তাঁরা বাঁধটি মজবুত করে মেরামত করতে পারতেন। তবে বিষয়টি ইরিগেশন দপ্তরকে জানিয়েছেন। দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। এ নিয়ে কোন সমস্যা নেই বলেই জানান তিনি। অপরদিকে বিজেপির হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কমিটির কনভেনার অভিজিৎ দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, কেন্দ্র সরকার কংক্রিটের নদী বাঁধের জন্য যে পরিমান অর্থ দিয়েছে, ইরিগেশন দপ্তরকে তারা কোনও হিসাব দেয়নি বলেই বাঁধের এমন অবস্থা। হিসাব দিলে কেন্দ্রের তরফ থেকে পুনরায় টাকা পাওয়া যাবে বলে জানান। পাশাপাশি তিনি এও বলেন- রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হল ছাপ্পা দেওয়া প্রধান। তিনি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কংক্রিটের বাঁধ নির্মানের জন্য দেওয়া অর্থ লুটে নিয়েছে। রাজ্যে যা হচ্ছে, তাতে ২০২৬ এর নির্বাচনে মমতার বিসর্জন হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
নদী বাঁধে ফাটল এলাকাবাসী আতঙ্কিত
0%

















