ব্যাঙ্কে সোনা জমা রেখে প্রতারিত, ধৃত ২
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ ব্যাঙ্কে সোনা জমা রেখে লোন নিয়েছিলেন এক মহিলা। লোন পরিশোধের পর সোনা ফেরত পেতে গিয়ে তিনি হকচকিয়ে যান। সোনা না পেয়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে কলকাতার ভবানীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ব্যাঙ্কের ২ কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর এক মহিলা ভবানীপুর থানায় এসবিআই ও তাঁর স্টাফদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এই মর্মে যে, শিয়ালদহ এলাকার বাসিন্দা ইরশাদ আলী মোল্লা (পেশায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক) ও তাঁর স্ত্রী সিদ্দিকা খাতুন ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার জন্য স্টেট ব্যাঙ্ক ভবানীপুর শাখায় সোনা বন্ধক রেখে লোন নেবেন বলে ২০১৭ সালে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিদ্দিকা খাতুন ৫১৭ গ্রাম সোনা ওই ব্যাঙ্ক রাখেন। বিনিময়ে ব্যাঙ্ক থেকে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা লোন নেন। মোটা টাকা লোন নিলেও প্রতিমাসে সময়মতো তাঁরা ইএমআই এর টাকা পরিশোধ করেন। ২০১৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি সম্পূর্ণরূপে তাঁদের সেই লোন শোধের পর্ব শেষ হয়। লোন পরিশোধ হওয়ার পর সোনা ফেরত আনতে ইরশাদ ও সিদ্দিকা ব্যাঙ্কে যান। সেই সময় ‘সোনা বাড়িতে না রেখে ব্যাঙ্কে রাখলে নিরাপদ থাকবে’ বলে জানায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজার আফতাব আহমেদ। ম্যানেজারের কথামতো তাঁরা ব্যাঙ্কেই তাদের সেই সোনা রেখে দেন। ২০২৪ সালে পুনরায় সিদ্দিকা তাঁর সোনা আনতে ব্যাঙ্কে গিয়ে চমকে ওঠেন। ব্যাঙ্কের তরফে সই করা নথি দেখিয়ে জানানো হয়, তিনি নাকি ব্যাঙ্ক থেকে তাঁর সোনা তুলে নিয়েছেন। সই করা কাগজ দেখে সিদ্দিকা বলেন সইটা আদৌ তাঁর নয়, সেটি নকল। এরপরই থানার দারস্থ হন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দীর্ঘ আট মাস পর এসবিআই এর ভবানীপুর শাখার ডেপুটি ম্যানেজার গৌরচন্দ্র সরদার ও ক্যাশিয়ার অনির্বাণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে, আদালত মারফত ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ।
ভুয়ো ট্রাফিক চালান বানিয়ে প্রতারণার দায়ে ধৃত
ব্যাঙ্কে সোনা জমা রেখে প্রতারিত, ধৃত ২
98%


















