সিলিকোসিসে প্রশাসনের সতর্কতার দাবী
দাবদাহ লাইভ, বসিরহাট, হরিগোপাল দত্ত: সিলিকোসিস হল ফুসফুসের মারাত্মক একটি রোগ এবং এটা একটা মারণ রোগ। মূলত সিলিকোসিস সুক্ষ্ম কনা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে গিয়ে জমা হয় এবং এই মারণ রোগ সৃষ্টি করে। সিলিকা হল একটি সূক্ষ্ম খনিজ যা শিলা, বালি ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। যারা খনন বা পাথর কাটার মত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাদের মধ্যে এই রোগ দেখা যায় বলে জানা যায়। চিকিৎসকদিগের মতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা যা’ সিলিকা কণা, বায়ুবাহিত হয়ে নিঃশ্বাসের সঙ্গে তাদের ফুসফুসে গিয়ে জমা হয় এবং ফুসফুসের প্রদাহ সৃষ্টি করে ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। অর্থাৎ সিলিকোসিস রোগ হয়। যেহেতু বর্তমানে এর কোন প্রতিকার নেই। তাই এইসব কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তাদের জন্য কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরী। বিশেষ ষ্ণের মতে, এর জন্য কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বায়ুচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জল স্প্রে বা ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করে সিলিকা কণা ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আনা আবশ্যক। ফুসফুসে সিলিকা কনা যাতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরী। পাশাপাশি কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া। এই রাজ্যে আসানসোল শিল্পাঞ্চল সহ বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য বৈধও অবৈধ পাথর ভাঙ্গার কারখানা আছে। আসানসোল এলাকায় বহু খনি আছে। কোন নিয়ম নীতি না মেনে তারা শ্রমিক ও স্থানীয়দের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ফলে অনেকেই সিল্কোসিস/সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। মাঝে মাঝে মৃত্যুর খবর সামনে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় আর প্রশাসন একটু নড়ে চড়ে বসে বলে জানা যায়। কিন্তু কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ফলে মৃত্যুর মিছিল চলতেই থাকে। অনেকেই সিল্কোসিসে/সিলিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকেন । তবুও প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গে না। যেসব এলাকায় পাথর ভাঙ্গার কারখানা আছে এবং যেসব শ্রমিক এখানে কর্মরত তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, ঠিক কতগুলো মৃত্যু হলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? সরকার কেন ওইসব মালিকদের সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে না? সিলিকোসিস রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা যখন নাই তখন কেন চৎবাবহ: রড়হ রং নব: :বৎ :যধহ পৎব এই আপ্ত বাক্যটি মাথায় রাখা হচ্ছে না ? তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের সতর্কতার দাবী তুলছে জেলা সহ রাজ্যবাসী।



















