প্রিন্টিং মিসটেক সাহিত্যের এক অনন্য দলিল
দমদম রক্তকরবীর মঞ্চে বইয়ের হারানো স্মৃতি
দাবদাহ লাইভ, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ গত শনিবার (২৩/০৮/২৫) বিরাটি নজরুল মঞ্চে দমদম রক্তকরবী নাটক আকাদেমির প্রযোজনা ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ মঞ্চস্থ হল তৃতীয়বারের মতো। লেখক ও পরিচালক বোধিসত্ত্ব মজুমদারের এই একাঙ্ক নাটক (সময়কাল প্রায় ৫০ মিনিট) সমসাময়িক বাংলা থিয়েটারের ভিড়ে নিঃসন্দেহে এক অভিনব অভিজ্ঞতা। নাটকের বিষয়বস্তু চমকপ্রদ ও গভীর। মানুষ বই পড়া থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাওয়ায় বইয়ের ভেতরের চরিত্ররা যেন মানুষের মস্তিষ্ক থেকে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই ভাবনা পরিচালক মঞ্চে ফুটিয়ে তুলেছেন এমন এক ভিজ্যুয়াল ও টেকনিক্যাল পরীক্ষায়, যা বিরল। প্রেক্ষাগৃহের প্রচলিত আলো এড়িয়ে টর্চ, হ্যারিকেন, মোমবাতি, টুনি লাইট ও বাল্বকে আলোর উৎস হিসেবে ব্যবহার এবং সেই আলো নিয়ন্ত্রণে অভিনেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মঞ্চে এক অদ্ভুত জ্যোৎস্না তৈরি করেছে। অভিনয়ের দিক থেকেও সাগর, কৈরবী, সুস্মিতা, প্রিয়বন্ধু, করবী, অন্বয়, তুহিন, ভিনিত ও শচীনের পারফরম্যান্স সমানভাবে উজ্জ্বল। প্রত্যেকেই চরিত্রে নিবিড়ভাবে ডুবে গিয়ে দর্শককে ভাবনার ভেতরে টেনে নিয়েছেন। নাটক শেষে কয়েক মুহূর্তের নীরবতা, যা বোঝায় দর্শক কতটা আলোড়িত হয়েছে। তবে, সামান্য কিছু জায়গায় গতি নিয়ন্ত্রণ আরও আঁটসাঁট হলে নাটকটি আরও প্রখর হতে পারত। কিছু সংলাপের পুনরাবৃত্তি ছেঁটে দিলে রিদম আরও ধারালো হতো। তবে এই সামান্য খুঁত সত্ত্বেও ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ যে আজকের বাংলা থিয়েটারে এক সাহসী শিল্প-প্রয়াস, তাতে সন্দেহ নেই। আগের দুটি মঞ্চায়ন— বরানগর দৃশ্যকাব্য আয়োজিত অণুনাটক প্রতিযোগিতা (২২/০৩/২০২৫) ও গন্ডগোল আয়োজিত সংঘমিত্রা ব্যানার্জী নাট্য উৎসব (১৯/০৭/২০২৫) নিয়ে যত প্রশংসা শুনেছিলাম, শনিবারের মঞ্চায়ন তা বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে। প্রিন্টিং মিসটেক কেবল এক নাটক নয়, এটি সাহিত্যের দলিল, মানুষ আর স্মৃতির সম্পর্ক নিয়ে এক জরুরি প্রশ্নের উত্থান।
নিউজ এক ঝলকে
প্রিন্টিং মিসটেক সাহিত্যের এক অনন্য দলিল
96%

















