শিক্ষাক্ষেত্রে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ধৃত
দাবদাহ লাইভ, বনগাঁ, বৈশাখী সাহাঃ মেয়েরা নিরাপদ- বর্তমানে কথাটা যেন একেবারেই বেমানান। সংবাদ মাধ্যমে চোখ পড়লে উঠে আসে চারিদিকে ঘটে চলা নারীদের উপর নানাবিধ নির্যাতনের কাহিনী। রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র- যেখানে শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ তৈরীর কারিগর, বর্তমানে সেখানেও নিরাপদ নয় মেয়েরা। সেই মানুষ তৈরীর কারিগরদের মধ্যে কিছু নিম্ন মানসিকতা, কুরুচিসম্পন্ন কারিগর তাদের লালসার নজরে ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে মেয়েদের। তারই একটা চিত্র তুলে ধরা হল। শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্কুলের মধ্যে এক শিক্ষককে মারধর করে অভিভাবকেরা। ঘটনার জেরে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার বাগদা থানা এলাকার এক স্কুলের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবিরাম বৃষ্টির কারণে বেশিরভাগ এলাকায় রাস্তাঘাট, বাড়িঘর জলমগ্ন। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে মানুষ। নানান বিষাক্ত জীব ও রোগব্যাধির আতঙ্কে প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না মানুষ। ফলে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতিও অন্যান্য দিনের তুলনায় খুবই কম। এরই মধ্যে পুনরায় বৃষ্টির জেরে স্কুলে যায় হাতে গোনা কিছু শিক্ষার্থী। ক্লাস শেষে শিক্ষক শিমুল বিশ্বাস অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিলেও তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ছুটি না দিয়ে তাঁকে ক্লাসরুমে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপরই শুরু হয় তাঁর পৈশাচিক আচরণ। ক্লাস রুম ফাঁকা হবার পর তিনি ওই ছাত্রীর শরীরের একাধিক স্থানে অশ্লীলভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ছাত্রী বাড়ি ফিরে আসলেও একেবারে চুপ করে থাকে। তাঁর চোখেমুখে এক অজানা আতঙ্ক পরিলক্ষিত হয়। যা নজর এড়ায়নি কারও। পরবর্তীতে স্কুলে যেতে সে অনিহা প্রকাশ করে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ওই আচরণের কারণ জানতে চায় ছাত্রীর মা। জোর করতেই সন্দেহের অবসান ঘটে। এরপরই ছাত্রীর পরিবার স্কুলে গিয়ে ওই শিক্ষকের মুখোমুখি হয়। বিষয়টি চাউর হতেই অন্য অভিভাবকেরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযক্তকে স্কুলে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বরে। খবর পেয়ে বাগদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে। অভিভাবকেরা ওই স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, নিরাপত্তা সুনিষ্চিত করতে হবে ও অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ধৃতের বিরুদ্ধে পক্স আইনে মামলা রুজু করার পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বাগদা থানার পক্ষ থেকে ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
শিক্ষাক্ষেত্রে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ধৃত
0%

















