পুলিশের জালে ভুয়ো চিকিৎসক
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ পিজি হাসপাতালের একজন খ্যাতনামা চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চিকিৎসা করার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এক ব্যক্তি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট থানার অন্তর্গত ইটিন্ডা রোডের বদরতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিজি হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ ইন্দ্রনীল বোস এর নাম ও রেজিষ্ট্রেশন ব্যবহার করে এক ব্যাক্তি চিকিৎসার নামে ব্যবসা করে চলেছে। এমনই খবর পেয়ে কলকাতার ওই খ্যাতনামা চিকিৎসক গোটা ঘটনা সরেজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে যান। এরপর হাওড়ার উলুবেড়িয়া মহকুমার আমতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ডক্টর ইন্দ্রনীল বোস নিজেই। ডক্টর বোসের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে আমতা থানার পুলিশ বসিরহাট থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে বুধবার ইটিন্ডা রোডের বদরতলা এলাকার একটি ফার্মেসীতে অভিযান চালায়। প্রথমে পুলিশের এক আধিকারিক রোগী সেজে ওই ভুয়ো চিকিৎসকের কাছে দেখাতে যান। এরপরই পরিস্থিতি ঘুরে যায়। চিকিৎসা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় ওই চিকিৎসক। তাঁকে আমতা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর ধৃত স্বীকার করে নেয় যে, সে ওই খ্যাতনামা চিকিৎসকের নাম ও রেজিষ্ট্রেশন ব্যবহার করে কর্মকাণ্ড চালালেও, সে আসলে কোচবিহারের বাসিন্দা অনুপম বোস। ফার্মেসী সূত্রে জানা যায়, গত একমাস যাবত নৈহাটি থেকে এসে নিজেকে বক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি রোগী দেখছিলেন। পাশাপাশি পিজি হাসপাতালের চিকিৎসক বলেও দাবি করেছিল তিনি। তাঁর দেখানো রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ওই নামে রেজিস্ট্রেশন আছে। কিন্তু একই নামের ব্যাক্তি যে ভিন্ন, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে আঙুল তুলেছে সাধারণ মানুষসহ বিরোধীরা। তাদের কথায়, গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা একদম তলানিতে ঠেকেছে। এরই মধ্যে এতদিন যাবত ওই হাতুড়ে চিকিৎসক যেভাবে একজন নামী চিকিৎসকের নাম ও রেজিষ্ট্রেশন ব্যবহার করে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে গেছে, তাতে চিকিৎসাপ্রাপ্ত মানুষেরা কোন ক্ষতির সম্মুখীন হলে তার দায়ভার কে নেবে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নজর সেদিকে ছিল না কেন? ওই ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পতনের একটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ বলে দাবি তাঁদের। ধৃত হাতুড়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আমতা থানার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ধৃতকে উলুবেড়িয়া আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ধৃত কেন ওই ঘৃণ্যতম কাজ করেছে, কোনও রোষের বশবর্তী হয়ে এমন কাজ করেছে কি-না, পূর্বে সে কোনও অপরাধমূলক কাজ করেছে কি-না, তাঁর ওই কর্মকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি-না, সমস্ত বিষয়টা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশের জালে ভুয়ো চিকিৎসক
0%

















