বিষ্ণু মাল হত্যাকান্ডে ৭ জনের ফাঁসি
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা,উত্তর ২৪ পরগনাঃ হুগলির চুঁচুড়ায় প্রেমঘটিত কারণে এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর দেহটি ৬টি খন্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। সেই হত্যাকান্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল ৮ জন। দীর্ঘ সময় ধরে চলে সেই মামলার শুনানি। বৃহস্পতিবার সেই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষনা করে চুঁচুড়া আদালত। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ত্রিকোণ প্রেমের জেরে চুঁচুড়া শহরের জনবহুল রায়েরবেড় এলাকা থেকে বছর ২৩ এর যুবক বিষ্ণু মালকে মোটরবাইকে করে তুলে নিয়ে যায় হুগলির কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশাল দাস ও তাঁর সাগরেদরা। এরপর ওই রাতেই চাঁপদানি এলাকার একটি বাড়িতে বিষ্ণুকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বিশাল। এরপর মৃতের দেহটিকে আটটি খন্ড করা হয়। দেহ খন্ডিত করার দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দিও করেছিল। এরপর দেহাংশগুলো প্যাকেটে ভরে শেওড়াফুলি ও বৈদ্যবাটির বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যুক্ত সমস্ত অপরাধীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় বিষ্ণুর দেহের খন্ডিত অংশ কোথায় কোথায় ফেলা হয়েছে তার সন্ধান দেয় দুষ্কৃতিরা। সেই অনুযায়ী পুলিশ দেহাংশ উদ্ধার করতে পারলেও বিষ্ণুর কাটা মুন্ডু খুঁজে বার করতে রীতিমতো কালঘাম ছুটেছিল পুলিশের। পরবর্তীতে ক্যানিংয়ের জীবনতলা থানা এলাকায় কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে কুখ্যাত দুষ্কৃতি বিশাল দাস। পরে চন্দননগর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে চুঁচুড়া থানায়। বিষ্ণুর কাটা মুন্ডু কোথায় ফেলেছে পুলিশের জেরায় তা কবুল করে সে। এরপর তাঁর কথা অনুযায়ী বৈদ্যবাটি খালের ধার থেকে প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় বিষ্ণুর মুন্ডু উদ্ধার করে পুলিশ। চুঁচুড়া শহরে এই নারকীয় হত্যার নিন্দায় সরব হয়েছিল সমস্ত ধরনের মানুষ। যতবারই দুষ্কৃতি বিশাল দাস ও তাঁর সাগরেদদের আদালতে তোলা হয়েছে, ততবারই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ওই নারকীয় হত্যাকান্ডে জড়িত দোষীদের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছিলেন। গত ২৫ শে নভেম্বর কুখ্যাত দুষ্কৃতি বিশাল দাস ও তাঁর ৭ সাগরেদকে দোষী সাব্যস্ত করে চুঁচুড়া আদালতের ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট। বৃহস্পতিবার পুলিশের কড়া পাহারায় অপরাধীদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হলে, ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্বরে জড়ো হন বহু মানুষ। চুঁচুড়া আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টে মামলা চলাকালীন সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা করে কুখ্যাত দুষ্কৃতি বিশাল দাস সহ তাঁর ৬ সঙ্গীকে ফাঁসি ও ১ জনকে ৭ বছরের কারাদন্ডের সাজা ঘোষণা করে চুঁচুড়া আদালত। রায় ঘোষনার পর আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিষ্ণুর মা বাবা ও তাঁর বোন। এ বিষয়ে সরকারি আইনজীবি বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, মামলাটি সাড়ে তিন বছরের ধরে চলেছে, যেখানে ৩৪ জন সাক্ষী দিয়েছে। আসলে বিষ্ণু একটা মেয়েকে ভালোবাসত। সেই অপরাধে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করার পর দেহটিকে মুরগি কাটার চপার দিয়ে টুকরো করে কেটে ফেলা হয়েছিল। সমাজের বুকে অতি বিরল এই ঘটনা। আদালত ওই মামলায় আজ সাত জনকে ফাঁসি ও একজনকে ৭ বছরের কারাদন্ডের সাজা শোনায়।
বহু মূল্য ক্যালিফোর্নিয়াম উদ্ধারে ধৃত তৃণমূল কর্মী
শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার পথে পর্যটক বোঝাই বাস দুর্ঘটনার কবলে
বিষ্ণু মাল হত্যাকান্ডে ৭ জনের ফাঁসি
92%



















