এডস সচেতনতায় ফুটবল টুর্ণামেন্ট
দাবদাহ লাইভ, প্রভাস বিশ্বাস: সাম্প্রতিক কালে মূলত এইডস, এইচ আই ভি নামক মারণ ব্যাধিকেই নির্মূল করার উদ্দেশ্যে সাধারণের মধ্যে সচেতন বার্তা পৌঁছানোর নিমিত্ত নহাটা হাই ও আকাইপুর নব গোপালপুর হাই স্কুলে ১৪ দলীয় এক ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলার সূচনা হয়। রাজ্য সভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করে এমন ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা পাবার নিদানও দিলেন। এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে টাইব্রেকারে নহাটা হাই ৫-৪ ব্যবধানে শ্রীপল্লী প্রিয়নাথ হাই স্কুলকে হারিয়ে বিজয়ী হয়। নির্ধারিত সময়ে কোন পক্ষই গোলের দরজা খুলতে পারেনি। নহাটার মুহুর্মুহ আক্রমণের ধারা প্রতিহত শ্রীপল্লীর শেষ প্রহরীর গ্লাভসে নাহয় বারপোষ্টে লেগে। জেলা থেকে আসা এইডস প্রতিরোধক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আধিকারিক- ‘প্রতিকী হিসাবে এমন গোল সেভের বর্ণনা করলেন এইচ আই ভি মারণ ভাইরাসের সাথে। আরও বললেন, গোলকিপারের সামান্য ভুলের কারণে টিম যেমন পরাজিত হয় ঠিক তেমনই আবেগের তাড়িত হয়ে সেকেন্ডের ভগ্নাঅংশের মতো সময়ে ভুলের কারণে সারা জীবনে তার মাসুল গুনতে হয়,এমন কি জীবনের মূল গতিধারা থেকেও পিছিয়ে যায় । আমরা নিজেরা সচেতন হবার সাথে সাথেই একে অপরকেও সচেতন করি এমন ভাইরাস থেকে।’ – নির্ধারিত সময়ে শ্রীপল্লীর কিপার ম্যাচের রং বদলে দিলেও শেষ সময়ে বিজয়ী ট্রফি অধরাই রইলো । নহাটার আক্রমণ বারংবার শ্রীপল্লী প্রতিহত করলেও ভাগ্যদেবী শেষ সময়ে সুপ্রসন্ন । আর তারই জেরে বিজয়ী ট্রফি নহাটার ক্যাপ্টেনের হাতে, বিজোল্লাসে মেতে ওঠে দল। শ্রীপল্লী বারকয়েক নহাটার ঘরে আক্রমণ শানালেও কাজের কাজ হয়ে ওঠেনি। বিজিত হয়েও ‘রেড রিবনের’ সচেতন বার্তা এবং পরিবার ও সামাজিক ভাবে ভালো থাকার মূল মন্ত্র দিয়ে গেলেন দলের কর্মকর্তা। অধিকাংশ ম্যাচই টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি ঘটে। প্রথম সেমিফাইনালে নহাটা হাই পাল্লা কে পি সিকে হারিয়ে ফাইনালে আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীপল্লী ফাইনালে ওঠে দিঘাড়ী ভাসান চন্দ্রকে হারিয়ে। টাইব্রেকারেই নিস্পত্তি হয় সেমিফাইনাল ম্যাচ। যেভাবে সেমিফাইনালে ওঠে দলগুলো -প্রথম কোয়াটার ফাইনালে নহাটা হাই সেমিফাইনালে যায় চৌবেড়িয়া দীনবন্ধু বিদ্যালয়কে হারিয়ে। পাল্লা কে পি সি সেমিফাইনালে ওঠে রামশঙ্করপুর হাই স্কুলকে হারিয়ে, শ্রীপল্লী প্ৰিয়নাথ হাই সেমিফাইনালে যায় মানিক কোলকে হারিয়ে, দিঘাড়ি ভাসান চন্দ্র হাই বেলতা হাইকে হারিয়ে সেমিফাইনালে। রেফারি সৌমিত্র কর্মকারের ভাষায়, আমাদের পকেটে থাকা হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে এমন ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আমরা নিজেরাই সচেতন হলে আমরা যেমন বাঁচবো তেমনি বাঁচবে আমাদের পরিবার পরিজন। আর তিল পরিমাণ অসচেতন হলেই সুস্থ স্বাভাবিক জীবন থেকে রেড কার্ড নিয়েই জীবন কাটাতে হবে। এছাড়া রেফারি ছিলেন বেলাল গাইন, অমিত মজুমদার ও দ্বিপায়ন ভৌমিক। খেলার সাথে জড়িয়ে থাকা এবং প ব রাজ্য বিদ্যালয় শিক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য তথা শিক্ষক দ্বীপেন বসু মোবাইল ও প্রাইভেট টিউশন প্ৰতিটি শিশুদের ভারাক্রান্ত করছে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যন্নতির একমাত্র মাধ্যম খেলা। খেলার মাধ্যমে শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে অচিরেই স্কুল বিমুখী হবে শিক্ষার্থীরা যা সমাজ ও সভ্যতার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। নহাটা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ বৈদ্যর কথায় -ভালো খেলার সাথে সাথেই চারিত্রিক দৃঢ়তাও গঠন করে যা অন্যকেও অনুপ্রাণিত করে। ভালো খেলায় উৎসায়িত যোগায়। একই দিনে আকাইপুর নব গোপালপুর হাই স্কুল মাঠে ৬ দলীয় টুর্নামেন্ট হয়। টুর্নামেন্টের ফাইনালে আকাইপুর বনাম ব্যাসপুর হাই স্কুলকে যুগ্ম ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াই নিয়ে গোলকিপার ও স্টপারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। চোট লাগে উভয়েরই।ইতিমধ্যে আলোর স্বল্পটাও দেখা দেয়। রেফারি বাঁশি বাঁজিয়ে সেখানেই খেলা স্থগিত করে। কর্মকর্তাগণ যুগ্ম ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে। সরাসরি বাই পেয়ে আকাইপুর ও সাতবেড়িয়া হাই স্কুল সেমিফাইনালে যায়। অন্য দিকে গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশন বনাম বৈরামপুর হাই স্কুলের খেলায় গোপালনগর এবং ব্যাসপুর হাই স্কুল বনাম অম্বিকাপুর আলতাব হোসেন হাই স্কুলের খেলায় ব্যাসপুর সেমিফাইনালে ওঠে। প্রথম সেমিফাইনালে গোপালনগর বনাম আকাইপুরের ম্যাচে আকাইপুর টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে আর ব্যাসপুর হাই সাতবেড়িয়াকেও টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে যায়। আকাইপুর নব গোপালপুর হাই স্কুলের ছয় দলীয় বিদ্যালয়ের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর মন্ডল। তিনি জানান, সচেতনতার বার্তাই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এইচ আই ভি নামক মারণ ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে যুব সমাজ। এমনই বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজ মাধ্যমে। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিন্যস্ত রাজ্য এইডস প্রতিরোধক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগে এবং নহাটা দক্ষিনাঞ্চল ক্রীড়া সংস্থা ও গোপালনগর আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় এক দিবসীয়ফুটবল টুর্নামেন্ট হলো। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্ট পিয়ালী দাস ( এইচ এই ভি,), উক্ত সম্পর্কিত জেলার আধিকারিকগণ, এছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এডস সচেতনতায় ফুটবল টুর্ণামেন্ট
0%

















