চিকিৎসা কেন্দ্রে জারি স্বাস্থ্য ভবনের নয়া নির্দেশিকা
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে রাজ্য তথা দেশ জুড়ে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। বিদেশেও পড়েছে সেই ঝড়ের প্রভাব। চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের সুবিচার ও অপরাধীর শাস্তির দাবিতে চলছে টানা আন্দোলন। সেই আবহে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে জারি করা হয় নয়া নির্দেশিকা। যা রাজ্যের প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোয় শুরু হয়েছে চর্চা। রাজ্যের সকল মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের পাশাপাশি ওই নির্দেশিকার কপি স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের ফিনান্স আধিকারিক এর কাছেও পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আরএমও তথা রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার এবং এসআর তথা সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য স্বাস্থ্য ভবনকে জানাতে হবে। রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার এবং সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের এই পদ হল নন প্র্যাকটিসিং পদ। অর্থাৎ তাঁরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। ওই পদে থাকা চিকিৎসকদের সম্পর্কে বিস্তারিত অর্থাৎ আরএমও ও এসআর ডাক্তারদের নাম, ফোন নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, আধার কার্ড, প্যান কার্ড নম্বর এমনকি স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে তাদের উচ্চশিক্ষা সম্বন্ধিত সমস্ত নথি, জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৯ ই আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের চার তলার সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল মহিলা চিকিৎসকের মৃতদেহ। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই চিকিৎসকের উপর নির্মম অত্যাচারের পর ধর্ষণ শেষে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের প্রভূত চেষ্টা চালানো হয়েছে। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে চিকিৎসকেরা। অপরাধীর শাস্তি এবং ন্যায় বিচারের দাবিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি পথে নেমে আন্দোলন করে চলেছে প্রতিনিয়ত। নির্যাতিতার হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ ও কর্মবিরতির পথে হাঁটবে বলে অনড় প্রতিবাদী জুনিয়র চিকিৎসকরা। অন্যদিকে আরজি কর কান্ডে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও উঠেছে নানাবিধ প্রশ্ন। তার নিরিখে সম্প্রতি কলকাতার পুলিশ কমিশনার ‘বিনীত গোয়েল’ এর পদত্যাগের দাবিতে লাল বাজার অভিযানও করেছে তাঁরা। এই নিয়ে যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে জারি করা হয় নয়া নির্দেশিকা। যা নিয়ে ডাক্তারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে ‘জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট’ এর ডাক্তার ‘অনিকেত মাহাতো’ বলেন, চলমান আবহে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা কেবলমাত্র প্রতিবাদী চিকিৎসকদের কর্মবিরতি হটানো ও আন্দোলন দমানোর উদ্দেশ্যেই। এখন দেখার বিষয় স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে জারি করা নয়া নির্দেশিকা কতটা কার্যকর হয়। চিকিৎসা কেন্দ্রেই বা এর কিরূপ প্রভাব পড়ে।
নিউজ এক ঝলকে
চিকিৎসা কেন্দ্রে জারি স্বাস্থ্য ভবনের নয়া নির্দেশিকা
97%

















